পুরভোটের নির্ঘণ্টে হাই কোর্টের কড়া রাশ, ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ভোট ঘোষণা নয়

ফাইল চিত্র

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে আইনি জট আরও ঘনীভূত। আপাতত কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন ঘোষণা না করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলায় একক বেঞ্চের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করল বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ৬ নভেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণা করবে আদালত।

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম। কসবার বাসিন্দা তথা সিপিএম নেতা দীপু দাসের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক সামঞ্জস্যের বিষয়গুলি যথাযথ ভাবে বিবেচনা করা হয়নি। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ মামলাকারীর।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজ্য। তার আগে ৫ অগস্ট পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং ৭ অগস্ট ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার কথা জানানো হয়। এই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন মামলাকারী।


মামলাটি প্রথমে ওঠে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে। পুনর্বিন্যাসের বিজ্ঞপ্তির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন মামলাকারী। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেয় একক বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের খসড়া প্রকাশের সময় মামলাকারী কোনও আপত্তি জানাননি। গত ২৯ অক্টোবর একক বেঞ্চ সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
একক বেঞ্চে অন্তর্বর্তী স্বস্তি না মেলায় ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় সিপিএম।

মামলাকারীর আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতে জানান, যে কোনও দিন কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। একবার নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেলে মামলার গুরুত্ব কার্যত হারিয়ে যাবে। তাই দ্রুত শুনানির আর্জি জানান তিনি।

বুধবার সেই মামলার শুনানিতে সিপিএমের আবেদনে সাড়া দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। শুনানি শেষে একক বেঞ্চের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা যাবে না বলে জানিয়ে দেয় আদালত। ওই দিনই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হওয়ার কথা।

মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা নিয়েই মূল প্রশ্ন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ডের পরিবর্তে প্রশাসক বসানো হয়েছিল। সেই প্রশাসকের দেওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকলে পুরসভার একজন কর্মচারী বা প্রশাসনিক আধিকারিকের সুপারিশের ভিত্তিতে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না।

অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎনাথ মিত্র এই যুক্তির বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি নির্দেশ মেনেই কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল। পুরসভা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুর আইন এবং সংবিধান সেই ক্ষমতা দিয়েছে। পাশাপাশি মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সব মিলিয়ে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বৈধতা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর। আগামী ৬ নভেম্বরের রায়ের উপরই নির্ভর করছে পুরভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পথে আইনি বাধা কতটা কাটে।