উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর পৌরসভায় হঠাৎই ১৬ জন কাউন্সিলরের গণইস্তফাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাঁচরাপাড়ার পর এবার হালিশহর পৌরসভাতেও বড়সড় ভাঙনের ছবি সামনে আসতেই জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। পদত্যাগীদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন মহিলা কাউন্সিলরও। তবে এই গণইস্তফায় সামিল হননি পৌরপ্রধান শুভঙ্কর ঘোষ।
বুধবার ব্যারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ইস্তফার কথা প্রকাশ্যে আনেন বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। তিনি জানান, মোট ১৬ জন কাউন্সিলর তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও এত বড় রাজনৈতিক ধাক্কার পরেও সাধারণ মানুষের পরিষেবায় কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, পৌরসভার সমস্ত পরিষেবা আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে চলবে।
এই গণইস্তফার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চাপানউতোর। বিরোধীদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছিল। সেই ক্ষোভই এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
এদিন সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন হালিশহর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৃত্যুঞ্জয় দাস। পদত্যাগের পর তিনি প্রকাশ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে খারাপ ফলের পর প্রাক্তন বিধায়ক থেকে সাংসদ— দলের কোনও শীর্ষ নেতাই কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। কাউন্সিলরদের মতামত বা সমস্যার কথাও গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মৃত্যুঞ্জয় দাসের আরও বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। নির্বাচনের পর সেই ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই তাঁরা গণইস্তফার পথ বেছে নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, হালিশহর পৌরসভায় মোট ২৩জন কাউন্সিলর রয়েছেন। তাঁর মধ্যে ১৬জন কাউন্সিলর ইস্তফা দেওয়ায় পৌরবোর্ড নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে আপাতত প্রশাসক বসিয়ে পৌরসভার কাজ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কাঁচরাপাড়ার পর হালিশহর পুরসভায় এই ধরনের বড় ভাঙন শাসকদলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল। বিশেষ করে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর একের পর এক অসন্তোষ সামনে আসায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের দলীয় নেতৃত্বের তরফে এই গণইস্তফা নিয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পরিস্থিতি সামাল দিতে খুব দ্রুত দলীয় স্তরে বৈঠক হতে পারে।