ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের। সংস্থার সম্প্রসারণ প্রকল্পে নতুন করে ৬০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে ‘অ্যাডপার্মা’। আগামী ১৪ অক্টোবর হলদিয়ায় গিয়ে প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে জানা গিয়েছে। নতুন বিনিয়োগের ফলে রাসায়নিক উৎপাদন ও সরবরাহ আরও বাড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদিত পণ্য ফেনল ও অ্যাসিটোন। বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত এই দুই রাসায়নিকের চাহিদা রয়েছে ওষুধ, গাড়ি, বৈদ্যুতিন সামগ্রী এবং রং তৈরির মতো একাধিক ক্ষেত্রে। সংস্থার বিশেষত্ব শুধু উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। একই পরিকাঠামোর মধ্যে উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং বণ্টনের ব্যবস্থা থাকায় দ্রুত সরবরাহের সুবিধা পাওয়া যায়। এই সমন্বিত উৎপাদন পরিকাঠামোই হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসকে শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
নতুন বিনিয়োগের আওতায় ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ করা হবে। প্রকল্পে বছরে ৩৪৫ কিলোটন ফেনল এবং ২১৫ কিলোটন অ্যাসিটোন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লে দেশের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে এই রাসায়নিকের জোগান আরও মসৃণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশীয় বাজারে উচ্চমানের রাসায়নিকের চাহিদা মেটানো এবং বিদেশ থেকে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ওষুধ শিল্প থেকে শুরু করে গাড়ি ও বৈদ্যুতিন সামগ্রী উৎপাদন, এমনকি রং তৈরির ক্ষেত্রেও ফেনল ও অ্যাসিটোনের ব্যবহার রয়েছে। ফলে হলদিয়ায় উৎপাদন বাড়লে একাধিক শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে সুবিধা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই প্রকল্প শুধু পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করবে না, পূর্ব ভারতের রাসায়নিক শিল্পের পরিসরও বাড়াতে পারে।
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসকে ঘিরে নতুন বিনিয়োগের আর একটি সম্ভাবনা হল অনুসারী শিল্পের বিকাশ। মূল কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লে তার উপর নির্ভর করে প্যাকেজিং, পরিবহণ, রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ এবং অন্যান্য সহায়ক শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাতে কর্মসংস্থান ও শিল্পাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও কাঁচামালের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাসায়নিক ক্ষেত্রে ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোনো সম্ভব হবে। এখন নজর ১৪ অক্টোবরের উদ্বোধন এবং নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির উপর।