সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল-কলেজের কর্মীদেরও বকেয়া ডিএ, পুজোর পর দেওয়ার কথা রাজ্যের

সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মীদের জন্য বড় খবর। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ দেওয়া হবে তাঁদেরও। তবে তার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে এমনটাই জানাল রাজ্য। রাজ্যের বক্তব্য, বকেয়া ডিএ মেটানো হবে, তবে পুজোর পর।

সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা হয়েছিল। বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে সেই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক। তবে তা মেটাতে কিছুটা সময় লাগবে।

মামলাকারীদের তরফে আদালতে জানানো হয়, বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ইতিমধ্যেই রয়েছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও প্রাপ্য ডিএ মেটাতে হবে বলে দাবি করেন তাঁদের আইনজীবীরা।


মামলাকারীদের বক্তব্য, শুধু সরকারি কর্মচারী নয়, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা ‘গ্রান্ট ইন এইড’ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক এবং অন্যান্য কর্মীরাও এই বকেয়া ডিএ-র আওতায় পড়েন। স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক—সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও প্রাপ্য অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে।

শুনানিতে রাজ্যের তরফে অবশ্য আদালতকে জানানো হয়েছে, ডিএ দেওয়া হবে, তবে তাৎক্ষণিক ভাবে নয়। পুজোর পর বকেয়া ডিএ মেটানোর কথা জানিয়েছে রাজ্য।

এদিন মামলায় রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। এর আগে সরকারি কর্মীদের ডিএ সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায়ও রাজ্যকে রিপোর্ট ফাইল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ বার সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দায়ের করা মামলাতেও রিপোর্ট চেয়েছে আদালত।

মামলাকারীদের আইনজীবীর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী প্রাপ্য ডিএ থেকে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কর্মীদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের দাবি, ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া ডিএ মেটানোর আর্থিক দায়ের হিসাবও জানিয়েছে। সেই হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হবে বলে রাজ্য আদালতে জানিয়েছে।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আওতায় থাকা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অন্যান্য কর্মীরাও প্রাপ্য ডিএ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না। সরকারি পোষিত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত, স্পনসরড—যে প্রতিষ্ঠানই হোক, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ এবং প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ডিএ দেওয়ার বিষয়টি কার্যকর করতে হবে।

ফলে বুধবারের শুনানির পর সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। এখন নজর রাজ্যের রিপোর্টের দিকে। সেই রিপোর্টে বকেয়া ডিএ মেটানোর সময়সীমা এবং কী ভাবে তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কী জানানো হয়, সেটাই দেখার।