উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল নয়। রবিবার আরও পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি উভয় পক্ষের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন করে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে রাতভর অভিযানে চার জনকে আটক করা হয়েছিল।
এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বউবাজার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ বাহিনীকেও মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষের সময় ইট ছোড়াছুড়ির ঘটনায় বেশ কয়েক জন পুলিশ কর্মী জখম হন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে ছয় জনকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এখনও দু’জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। কমিশন কলকাতা পুলিশের কমিশনারের কাছে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে চেয়েছে। পাশাপাশি সংঘর্ষের পর উত্তর কলকাতায় রাজ্যের এক মন্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ নিয়েও রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় প্রধানমন্ত্রীর কলকাতার সভাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার পথে গিরিশ পার্ক এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। সেই সময় এক মন্ত্রীর বাড়ির দিকে ইট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি সমর্থকেরাই এই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, তাঁদের সমর্থকদের উপরই প্রথমে আক্রমণ করা হয় এবং সেই থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন জায়গার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কেউ থাকলে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হতে পারে।