গালিফ স্ট্রিটের বহুচর্চিত পোষ্য বাজারে বেআইনি প্রাণী কেনাবেচা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। কুকুরছানা থেকে পাখি, মাছ—কোনও ধরনের বেআইনি পোষ্য বিক্রি করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রবিবার থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর করার কথা জানিয়েছে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ।
শুধু বেআইনি বিক্রি বন্ধ করাই নয়, বাজারে কারা ব্যবসা করতে পারবেন, তা নিয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কলকাতা পুরসভার বৈধ লাইসেন্স রয়েছে, এমন বিক্রেতারাই কেবল সেখানে পোষ্য বিক্রি করতে পারবেন। তবে লাইসেন্স থাকলেই যে কোনও প্রাণী বিক্রির অনুমতি মিলবে না বলেও স্পষ্ট করেছে আদালত। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিক্রি হওয়া প্রাণী আইন মেনে কেনাবেচা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে পুলিশকে।
বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির প্রাণী পাচার এবং বেআইনি কেনাবেচা বন্ধ করতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছিল হাইকোর্ট। সেই মামলার শুনানিতেই উঠে আসে গালিফ স্ট্রিটের বাজারের প্রসঙ্গ। আদালতে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই এই বাজারে নানা ধরনের বেআইনি পাখি ও প্রাণী কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। এমনকী বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী পাচারের জন্যও এই বাজারকে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের বাজারে বিক্রি হওয়া পোষ্যগুলির বৈধতা যাচাই করতে হবে। কোনও প্রাণী আইন মেনে আনা হয়েছে কি না, তার নথিপত্রও খতিয়ে দেখতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চোরাচালান ঠেকাতে শুল্ক দফতরকেও বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে আদালত। শুল্ক আধিকারিকদের নিয়মিত নজরদারি চালানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে ছদ্মবেশে বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য, প্রকাশ্যে নজরদারি এড়িয়ে বেআইনি প্রাণী বা পাখি কেনাবেচার কোনও চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করা।
ইতিহাসের দিক থেকেও গালিফ স্ট্রিটের এই বাজারের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে হাতিবাগান এলাকায় শুরু হয়েছিল এই পোষ্য বাজার। পরে যানজট-সহ নানা কারণে সেটি গালিফ স্ট্রিটে স্থানান্তরিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে শখের হাট নামে পরিচিত এই বাজারে পোষ্য কেনাবেচা চলে আসছে।
এ বার সেই পুরনো বাজারেই বেআইনি প্রাণী কেনাবেচা বন্ধ করতে সরাসরি হাই কোর্টের নজরদারি শুরু হল। আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর ভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর।