দক্ষিণ ২৪ পরগণার সুন্দরবনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের হামলায় প্রাণ হারালেন এক জেলে। দু’দিন পর ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ভিতর থেকে উদ্ধার হল তাঁর রক্তাক্ত দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম জীবন ভক্ত (৩৬)। তিনি পাথরপ্রতিমা ব্লকের জি-প্লটের সত্যদাসপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় চার বছর আগে বিয়ে করে রামগঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রপস্থ আদিবাসী কলোনিতে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। সংসারে রয়েছেন স্ত্রী দুর্গা ভক্ত ও দুই নাবালক সন্তান।
পরিবারের আর্থিক সঙ্কট মেটাতে জীবন ও তাঁর স্ত্রী নিয়মিতভাবে সুন্দরবনের জঙ্গলে কাঁকড়া ও মাছ ধরতে যেতেন। গত বৃহস্পতিবার তাঁরা প্রায় ১০ জন জেলের সঙ্গে পাথরপ্রতিমা ব্লকের কালস দ্বীপের পশ্চিম তীরে কাঁকড়া ধরতে যান। শুক্রবার সন্ধ্যায় কাজ করার সময় হঠাৎ জঙ্গলের দিক থেকে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবনের উপর। স্ত্রীর চোখের সামনেই তাঁকে টেনে নিয়ে যায় অরণ্যের গভীরে।
স্ত্রীর আর্ত চিৎকারে সঙ্গীরা ছুটে এলেও ঘন জঙ্গল ও বাঘের আতঙ্কে আর ভিতরে ঢোকার সাহস পাননি কেউ। রবিবার দুপুরে কয়েকজন সাহস করে ওই ব্যক্তির খোঁজে বেরিয়ে অরণ্যের ভিতরে জীবনের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে নৌকায় করে দেহ আনা হয় পাথরপ্রতিমায়।
কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে। পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার অতিরিক্ত বিভাগীয় বনাধিকারিক পার্থ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের হামলায় জেলের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রায়দিঘি রেঞ্জ অফিসের আধিকারিকেরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন।’
এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মৃতের পরিবারকে অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। জীবনের শাশুড়ি সারি ভক্ত বলেন, ‘আমার মেয়ে-জামাই কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিল। তখনই বাঘ হামলা করে। পরে গ্রামের লোকেরা জঙ্গলের ভিতর থেকে ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে। সরকারের উচিত আমার মেয়ের পাশে দাঁড়ানো। ওর দুই ছোট সন্তান রয়েছে।’