ফের কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। নিউ মার্কেট, শিয়ালদহের পর এবার আগুনের গ্রাসে চিৎপুরের নবাবপট্টি। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে এলাকার একটি রাসায়নিক কারখানায় আচমকাই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে পরে আরও ছ’টি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। মোট ১১টি ইঞ্জিন নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কারখানার দোতলার জানলা দিয়ে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। খবর দেওয়া হয় দমকলে। কারখানার ভিতরে দাহ্য রাসায়নিক-সহ একাধিক সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, আগুন লাগা কারখানাটির আশপাশে আরও বেশ কয়েকটি কারখানা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
প্রথমে চারদিক থেকে হোসপাইপের মাধ্যমে জল ছোড়া শুরু করেন দমকলকর্মীরা। পরে কারখানার ভিতরে আগুনের উৎসস্থলের কাছাকাছি পৌঁছনোর চেষ্টা করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশকেও। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় গোটা এলাকায়। আতঙ্কের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে কারখানার পাশেই অ্যালকোহলের একটি গোডাউন থাকায়। আগুন যাতে সেখানে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দেন দমকলকর্মীরা। কারখানার বন্ধ গেট গ্যাস কাটার দিয়ে কাটার চেষ্টা করা হয়। দরজা খুলে ভিতরে জল ঢুকিয়ে আগুন ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হয়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হলেও অন্য কোনও কারণে আগুন লেগেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তিনি জানান, ঘটনায় কোনও প্রাণহানি হয়নি। কয়েকটি বাণিজ্যিক সামগ্রীর ক্ষতি হয়েছে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে। আগুন লাগার ঘটনায় পুলিশ ও দমকলের তরফে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।