ফলতায় পুনর্নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোট, প্রথম দু’ঘণ্টায় ভোট পড়ল ২০.৪৭ শতাংশ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনে সকাল থেকেই দেখা গেল দীর্ঘ ভোটারের লাইন। প্রথম দু’ঘণ্টাতেই ভোট পড়েছে ২০.৪৭ শতাংশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর কোথাও কোনও অশান্তি বা গোলমালের খবর মেলেনি।

মোট ২৮৫টি বুথেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৩৫ কোম্পানি। একটি মাত্র বিধানসভা কেন্দ্রে এত বিপুল বাহিনী মোতায়েন বিরল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভোটের দিন ফলতার রাজনৈতিক ছবিতে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অনুপস্থিতি। গত সপ্তাহেই তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন। তার পর থেকেই এলাকায় কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে শাসকদলের সংগঠন।


বৃহস্পতিবার ভোটের দিন কোনও বুথেই তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট দেখা যায়নি। এমনকি দলের অস্থায়ী শিবিরও চোখে পড়েনি কোথাও। একসময় ফলতা এলাকায় প্রবল প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খানের মূল পার্টি দপ্তরও বন্ধ ছিল। শ্রীरामপুরের বাড়িতেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

অন্যদিকে বিজেপি, সিপিআই(এম) এবং কংগ্রেসের এজেন্টদের সব বুথেই দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তাদের অস্থায়ী শিবিরও চালু ছিল নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে।

যদিও জাহাঙ্গির খান ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন, তবু তাঁর নাম ইভিএমে রাখা হয়েছে। ফলে সেই ঘোষণা কার্যত প্রতীকী বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও সকাল থেকেই ভোটারদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বহু ভোটার দাবি করেছেন, ২০১১ সালের পর এই প্রথম তাঁরা ভয় ছাড়া ভোট দিতে পারছেন।

এক ভোটারের কথায়, ‘আমরা বরাবর তৃণমূল সমর্থক। কিন্তু ২০১১ সালের পর কোনও ভোটেই ঠিকমতো ভোট দিতে পারিনি। এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় ভয় ছাড়া ভোট দিতে পারছি।’