শেয়ার বাজারে মোটা লাভের টোপ দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলেছিল সাইবার প্রতারকরা। প্রথমে ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করিয়ে ফেরত দেওয়া হয় প্রায় ৫ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা। সেই লাভে ভরসা করে ওই ব্যবসায়ী আরও প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। এরপরই শুরু হয় আসল খেলা।
আরও ২৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের জন্য চাপ দেওয়া হয় তাঁকে। রাজি না হওয়ায় সেবির নামে পাঠানো হয় ভুয়ো চিঠি। মানি লন্ডারিং মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অক্ষত ও অবিনাশ নামে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।
ঘটনায় বেনিয়াপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন পূর্ব কলকাতার ওই ব্যবসায়ী। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রতারণার ৬.১২ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে ব্যবসায়ীকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৬ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকার হদিস পেতে তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দু’য়েক আগে ফেসবুকে শেয়ার ট্রেডিং সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞাপন দেখেছিলেন ওই ব্যবসায়ী। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাঁকে যুক্ত করা হয়। সেখান থেকেই অক্ষত ও অবিনাশ নামে দুই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে একটি ভুয়ো শেয়ার ট্রেডিং অ্যাপ ডাউনলোড করানো হয়।
প্রথমে ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন ব্যবসায়ী। কিছুদিন পর তাঁকে প্রায় ৫ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। সেই টাকা তিনি তুলেও নেন। এরপর আরও বেশি লাভের আশায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি। অভিযোগ, তারপর থেকেই ক্রমশ বাড়তে থাকে প্রতারকদের চাপ।
ব্যবসায়ীকে আরও ২৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে বলা হয়। কিন্তু বিপদ আঁচ করে তিনি রাজি হননি। একসঙ্গে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান। অভিযোগ, এরপরই সেবির নামে একটি ভুয়ো চিঠি পাঠানো হয় তাঁর কাছে। চিঠিতে দাবি করা হয়, তিন দিনের মধ্যে ২৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ না করলে মানি লন্ডারিং আইনে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিঠিটি আসল ভেবে ভয় পেয়ে যান ব্যবসায়ী। শেষ পর্যন্ত আত্মীয় ও বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা ধার করে ১৭.৬৩ লক্ষ টাকা অভিযুক্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠান তিনি। কিন্তু তাতেও শেষ হয়নি প্রতারণা।
ভুয়ো অ্যাপের মাধ্যমে নিজের শেয়ার বিক্রি করে টাকা ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করেন ব্যবসায়ী। তখন ফের নতুন শর্ত চাপানো হয়। শেয়ার বিক্রি করতে গেলে ২০ শতাংশ কমিশন দিতে হবে বলে জানানো হয়। তখনই প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি। এরপর বেনিয়াপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে মোবাইল নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ৬.১২ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি টাকা কোথায় সরানো হয়েছে এবং এই প্রতারণা চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।