এন্টালিতে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে অভিযান, উদ্ধার ৩ নাবালক

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এন্টালি এলাকা থেকে তিন নাবালককে উদ্ধার করল শ্রম দফতর। তিনজনের মধ্যে দু’জনের বয়স ১৬ বছর এবং একজনের বয়স ১৪ বছর বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের দিয়ে রেস্তরাঁ, গ্যারাজ এবং দরজির দোকানে কাজ করানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

শ্রম দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এন্টালি এলাকায় শিশুশ্রম বিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযানে শ্রম দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে ছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযানে তিন নাবালককে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের বয়সের প্রমাণও মিলেছে বলে দাবি পুলিশ ও শ্রম দফতরের।

উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরের মধ্যে একজনের বাড়ি হুগলির আরামবাগে, একজনের বাড়ি বিহারের মধুবনীতে। তৃতীয় জন এন্টালির বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে একজন দরজির দোকানে, একজন রেস্তরাঁয় এবং অন্য জন গ্যারাজে কাজ করছিল বলে জানা গিয়েছে।


উদ্ধারকারী দলের কাছে তিন কিশোর জানায়, কম পারিশ্রমিকে তাঁদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছিল। তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই তিনটি সংস্থার মালিকের বিরুদ্ধে এন্টালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে শ্রম দফতর। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশু শ্রম আইন এবং কিশোর ন্যায়বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।

চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির নির্দেশে উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরকে আপাতত একটি হোমে রাখা হয়েছে।

কলকাতার বিভিন্ন দোকান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িতে নাবালক-নাবালিকাদের দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ রয়েছে। কলকাতার বাইরে, এমনকী অন্য রাজ্য থেকেও নাবালক-নাবালিকাদের এনে কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। কোথাও শুধু থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেও কাজ করানোর অভিযোগ রয়েছে। কাজের জায়গায় নিগ্রহের অভিযোগও সামনে এসেছে।

এই ধরনের অভিযোগের পর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় আরও অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ এবং শ্রম দফতর। নাবালক-নাবালিকাদের বেআইনিভাবে কাজে নিয়োগের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।