সাত সকালে মহানগরীতে একেবারে অ্যাকশন মোডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ইডি)। তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলায় তল্লাশি শুরু করেছেন ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতার পাঁচ জায়গায় ইডি আধিকারিকেরা তল্লাশি শুরু করেছেন। সেই সঙ্গে সল্টলেকের সিজি ব্লকে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও ইডি সকাল থেকে অভিযান শুরু করেছে।
ইডি সূত্রের খবর, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে? বর্তমান সিগনেটরি কে রয়েছেন? এইসব তথ্য জানতেই তারা তল্লাশি শুরু করেছেন। এদিন কলকাতায় লালবাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি জায়গায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা গিয়েছেন। এর পাশাপাশি সল্টলেক, রাজারহাট-সহ বেশ কিছু জায়গার ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তৎকালীন সরকারের আমলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন নেতার চার্টার্ড বিমানে যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সম্প্রতি এ নিয়ে ঋতব্রত শিবিরও প্রশ্ন তুলেছিল। তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নিয়ে চার্টার্ড বিমানে ঘোরার অভিযোগ তোলেন বিদ্রোহী সাংসদরা। সেই সূত্র ধরে মঙ্গলবার চার্টার্ড বিমান সংস্থার মালিকের বাড়িতেও হানা দেন ইডির আধিকারিকেরা।
জানা গিয়েছে, এদিন সল্টলেকের সিজি ব্লকে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্মীরা গিয়েছিলেন। ওই ব্যবসায়ীর একাধিক সংস্থা রয়েছে। এর মধ্যে উড়ান সংস্থাও রয়েছে। সেই সংস্থা চার্টার্ড বিমান পরিষেবা দেয়। তৃণমূলের একাধিক ভিভিআইপি-কে ওই সংস্থা চার্টার্ড বিমান পরিষেবা দিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় ও তাঁর শিবিরের পাঁচজন বিধায়ক পুলিশের কাছে বয়ান দিয়েছেন। এর আগে প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একজন বিধায়কও সাইবার থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সাইবার প্রতারণার কিছু টাকা তৃণমূলের কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।
সেই অভিযোগের পরেই পুলিশ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টের ডেবিট ফ্রিজ করার জন্য জানায়। পরে ইডি তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলার তদন্ত শুরু করে।