বিরাটির পর দত্তপুকুর, পরপর ৫ সিপিএম পার্টি অফিসে ভাঙচুর! গ্রেফতার এসএফআই নেতা

নিজস্ব চিত্র

বিরাটির পর এ বার দত্তপুকুর। উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানা এলাকায় পরপর পাঁচটি সিপিএম পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। শুক্রবার রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে দুষ্কৃতীরা একাধিক পার্টি অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ বামেদের। ঘটনায় আকাশ কর নামে এক এসএফআই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে হামলার নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ সিপিএমের।

দত্তপুকুর দু’নম্বর রেলগেটের কাছে সিপিএমের এরিয়া কমিটির অফিসেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। দলের দাবি, অফিসের ভিতরে ঢুকে কাগজপত্র বের করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একই ভাবে গঙ্গাপুর মোড়, দত্তপুকুর স্টেশনের কাছে এবং নিবাধুই বাজারের এক নম্বর রেলগেট সংলগ্ন পার্টি অফিসেও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরাটির বণিক মোড়ে সিপিএমের একটি পথসভা ঘিরেও উত্তেজনা ছড়ায়। গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ওই সভামঞ্চে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। ভাঙা হয় চেয়ার, ছিঁড়ে ফেলা হয় ব্যানার এবং মহাত্মা গান্ধীর ছবিও ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বামনেত্রী দীপ্সিতা ধরকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগও করেছে সিপিএম।


বণিক মোড়ের সভায় বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর। তার আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরাটির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতের দিকে দত্তপুকুরে একের পর এক পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ সামনে আসে।

সিপিএমের অভিযোগ, তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আন্দোলন থামাতেই পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালানো হয়েছে। দলের দাবি, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একই ধরনের হামলার অভিযোগ তুলে এ বারও পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বামেরা।

হামলায় কারা জড়িত, তা দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে সিপিএম। ঘটনায় ইতিমধ্যেই আকাশ কর নামে এক এসএফআই নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হামলার নেপথ্যে বিজেপির যোগ থাকার যে অভিযোগ বামেরা তুলেছে, সেই বিষয়ে বিজেপির তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।