পাঁচ বছরেও ভোটের দেখা নেই, ডোমকল পুরসভা’ কি ফিরবে ভোটে?নির্বাচনের দাবিতে হাইকোর্টে বিধায়ক

File photo

একটা ভোটের জন্য অপেক্ষা করতে করতে কেটে গিয়েছে বছরের পর বছর। নির্বাচিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে বহু দিন। কিন্তু ডোমকল পুরসভায় ফেরেনি ভোটের গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রশাসকের হাতেই চলছে পুরসভার কাজ। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান চেয়ে এ বার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়ক মহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (রানা)।

২০১৭ সালে শেষ বার সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল ডোমকল পুরসভায়। নির্বাচিত পুরবোর্ডের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয় ২০২২ সালে। তার পর থেকে নতুন করে নির্বাচন না হওয়ায় প্রশাসকের মাধ্যমেই পুর পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। অর্থাৎ, ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত ডোমকলবাসী।

মামলাকারীর সিপিআইএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য, পুরসভা শুধু রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল বা আলো-পরিচ্ছন্নতার পরিষেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়,এটি স্থানীয় মানুষের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
সংবিধানের ২৪৩-ইউ এবং ২৪৩-জেডএ অনুচ্ছেদে পুরসভার মেয়াদ ও নির্বাচন সম্পর্কে যে সাংবিধানিক কাঠামো রয়েছে, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় তার উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ।


আগের প্রশাসক জাফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর গত বছর ২৯ অগস্ট রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে ডোমকলের মহকুমাশাসককে পুরসভার প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন কাউন্সিলর বোর্ড দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসক দায়িত্ব পালন করবেন।

মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রশাসক ব্যবস্থা কোনও স্থায়ী বিকল্প নয়। বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িক ভাবে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু বছরের পর বছর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জায়গায় প্রশাসকের মাধ্যমে পুরসভা চালানো হলে স্থানীয় স্বশাসনের মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত ডোমকল পুরসভার নির্বাচন আয়োজনের আবেদন করেছিলেন বিধায়ক। কিন্তু সেই আবেদনের পরেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুর নির্বাচন নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। একাধিক পুরসভার নির্বাচন নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। জেলা শাসকদের নিয়েও বৈঠক করেছে কমিশন। অন্য দিকে কলকাতা, হাওড়া, বালি-সহ একাধিক পুরসভার নির্বাচন নিয়ে সক্রিয় হয়েছে রাজ্য বিজেপিও।

এই আবহেই ডোমকলের নির্বাচন নিয়ে হাই কোর্টে মামলা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মামলায় শুধু দ্রুত নির্বাচন করার দাবিই নয়, বছরের পর বছর প্রশাসকের মাধ্যমে পুরসভা পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বিধায়কের পক্ষ থেকে।

প্রশ্ন একটাই ,ডোমকলের পুরবাসী কবে ফের ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের কাউন্সিলর বেছে নেওয়ার অধিকার ফিরে পাবেন? চলতি সপ্তাহেই মামলাটির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা বিচারপতি রাজা বাসু চৌধুরীর এজলাসে।