শ্রীকৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ বলে কটাক্ষ! ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে ফের বিতর্কে বাগেশ্বরধামের পীঠাধ্যক্ষ ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। দুর্গাপুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গে আমিষ খাবার বিক্রি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। এ বার শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হলেন এক আইনজীবী। উত্তরপ্রদেশের আগরা সিভিল কোর্টে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মন্তব্যে শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত এবং ভগবানের উত্তরসূরিদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে।

ধীরেন্দ্রের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী অজয়প্রতাপ সিংহ। তাঁর দাবি, দ্বাপর যুগে মানবশরীরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর উত্তরসূরিরা এখনও বেঁচে রয়েছেন। নিজেকে শ্রীকৃষ্ণের পরিবারের সদস্য বলে দাবি করে মামলাকারীর অভিযোগ, ধীরেন্দ্রের মন্তব্যে তাঁদের সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

ঠিক কী বলেছিলেন ধীরেন্দ্র? সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার কারেরাতে একটি রামকথার অনুষ্ঠানে রাম ও কৃষ্ণের তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের রামচন্দ্র সোজা, সরল। কিন্তু তোমাদের কৃষ্ণ বাঁকা (টেঢ়ে)।’’ শুধু তা-ই নয়, শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গভঙ্গি, দাঁড়ানোর ধরন এবং বাঁশি বাজানোর ভঙ্গি নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। ধীরেন্দ্রের কথায়, ‘‘কৃষ্ণের নামও বাঁকা, চলনও বাঁকা। তিনি সব সময় তিন জায়গায় শরীর বাঁকিয়ে দাঁড়ান। তাঁর পা দু’টি আড়াআড়ি, কোমর এক দিকে বাঁকানো এবং ঘাড় বাঁকিয়ে বাঁশি বাজান।’’


অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানে শ্রীকৃষ্ণের মাথা ও দাঁড়ানোর ভঙ্গি নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন ধীরেন্দ্র। সেই ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক। শ্রীকৃষ্ণের ভক্তদের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাধিক সংগঠন তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। উত্তরপ্রদেশের মথুরার বিভিন্ন সন্ত ও ধর্মগুরুও ধীরেন্দ্রের বক্তব্যের নিন্দা করে ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি তোলেন।

বিতর্কের মুখে সোমবার ভিডিয়োবার্তায় ক্ষমা চান ধীরেন্দ্র। যদিও একই সঙ্গে তাঁর দাবি, পুরনো ভিডিয়োর কিছু অংশ কেটে জুড়ে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণকে অপমান করার কোনও অভিপ্রায় তাঁর ছিল না। বরং কৃষ্ণভক্ত, গোপী এবং সুরদাসের মতো কবিরা স্নেহ ও ভালোবাসার বশে শ্রীকৃষ্ণকে ‘বাঁকা ঠাকুর’ বা ‘শ্যাম বাঁকিয়া’ বলে সম্বোধন করতেন বলেই দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরেও পশ্চিমবঙ্গে এসে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ। হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের পিছনে আমিষ খাবার তৈরি ও বিক্রি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, নবরাত্রির সময়ে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের পিছনে আমিষ খাবার তৈরি করা তাঁর অপছন্দ। কলকাতার হিন্দুদের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়কট করার আহ্বানও জানান তিনি। এমনকি দেবীর প্রতিমা থাকুক বা না-থাকুক, প্রতিমার পাশে আমিষ খাবার বিক্রি বন্ধ রাখার আবেদন করেছিলেন। সেই মন্তব্য ঘিরেও সে সময় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল।