একটি মন্দির শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে প্রজন্মের বিশ্বাস, পুজোর রীতি এবং মানুষের আবেগ। সেই শীতলামাতার মন্দিরের নিত্যসেবা-পুজো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার মালিদা গ্রামের সেবায়েতরা।
মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী কাত্তিক চন্দ্র কাপাসের অভিযোগ, মন্দিরের জমি ও বিগ্রহ নিয়ে বিবাদের জেরে তাঁদের পুজো করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকী মন্দির থেকে দেবীর বিগ্রহ সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে দায়ের করা আবেদনে দাবি করেছেন তাঁরা।
আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ, মালিদা গ্রামে প্রায় ৮২ ডেসিমেল জমির উপর রয়েছে পুরনো শ্রীশ্রী শীতলামাতা ঠাকুরানির মন্দির। তাঁরা ওই দেবতার সেবায়েত। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় রীতি মেনে নিত্যসেবা-পুজো করে আসছেন। জমির রেকর্ডেও সেবায়েতদের নাম রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৬ জুলাই সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি লোকজন নিয়ে মন্দিরে এসে সেবায়েতদের পুজো করতে বাধা দেন। পরবর্তীতে দেবীর বিগ্রহ মন্দির থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় প্রতিষ্ঠা করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ১০ আগস্ট পুলিশকে অভিযোগ জানানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি আবেদনকারীদের। তাঁদের অভিযোগ, বাড়ির আশপাশে লোকজন জড়ো হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের কার্যত ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে। এমনকী সন্তানদের স্কুলে যেতেও সমস্যা হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। আবেদনকারীদের দাবি, থানায় গিয়ে ঘটনার কথা জানানো হলেও তাঁদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ বা এফআইআর করা হয়নি। পুলিশকে লিখিত প্রতিনিধিত্ব পাঠানোর পরও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি বলে আদালতে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: হাইকোর্টে সাময়িক স্বস্তি মহুয়া মৈত্রের, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় মিলল স্থগিতাদেশ
এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের কাছে সেবায়েতদের আবেদন, মন্দির ও সংশ্লিষ্ট জমিতে পুলিশ পিকেট বসানো হোক। নিত্যসেবা-পুজোয় যাতে কোনও বাধা না আসে তা নিশ্চিত করা হোক। সেই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হোক। এর পাশাপাশি তাঁদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তারও আবেদন জানানো হয়েছে মামলায়। চলতি সপ্তাহেই এই মামলায় শুনানির সম্ভবনা রয়েছে।