রেলের হকার উচ্ছেদ মামলায় পুনর্বাসনের দাবি, অন্তর্বর্তী নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

Calcutta High Court Photo-SNS

রেলের জমি ও স্টেশন চত্বর থেকে হকার উচ্ছেদ সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে পুনর্বাসনের প্রশ্নে সরব হলেন আবেদনকারীদের আইনজীবী শামিম আহমেদ। বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের এজলাসে আইনজীবী জানান, আবেদনকারীরা উচ্ছেদের বিরোধিতা করছেন না। তবে উচ্ছেদের আগে তাঁদের সম্মানজনকভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্র ও রেলের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

শুনানির শুরুতে বিচারপতি পার্থ সারথি সেন জানান, একই বিষয়ে একাধিক মামলা থাকায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত হয়েছে। একই যুক্তি পুনরায় শুনতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে মুলতবির আবেদন করতে হবে।’ সেই সঙ্গে সতর্ক করে বিচারপতি বলেছেন, ‘অকারণে প্রতিবার শুনানি পিছোলে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হবে।’

এরপর আবেদনকারীদের পক্ষে শামিম আহমেদ যুক্তি দেন, সব মামলাতেই মূল প্রার্থনা এক। রেলের উন্নয়নের স্বার্থে উচ্ছেদে তাঁদের আপত্তি নেই। তবে বহু বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষদের বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা উচিত নয়। তিনি আদালতে সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’ এর পাশাপাশি নীতিনির্দেশক মূলনীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং পুনর্বাসনের বিষয়েও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।’


জবাবে বিচারপতি পার্থ সারথি সেন প্রশ্ন তোলেন, কোন আইনের ভিত্তিতে রেল প্ল্যাটফর্ম বা রেলের জমি দখল করে থাকার অধিকার রয়েছে?  আদালতকে সেই আইনি ভিত্তি দেখাতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এর উত্তরে আবেদনকারীদের আইনজীবী বলেন, ‘বহু দশক ধরে প্রশাসন তাঁদের সেখানে থাকতে দিয়েছে। এখন উচ্ছেদ করতে হলে আগে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা থাকা উচিত।’ তাঁর আরও দাবি, আশ্রয়ের অধিকার মৌলিক অধিকারের অংশ। তাই উচ্ছেদের আগে সেই অধিকার সুরক্ষিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।

শুনানি শেষে আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে মামলাটি আগামী ১৬, ২১ ও ২২ জুলাই পুনরায় শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেয়।