শহর কলকাতায় বসে দীর্ঘদিন ধরে চলছে সাইবার প্রতারণার বিরাট চক্র। আর সেই চক্রের জাল বিস্তার করেছে ভিন রাজ্যতেও। আর সেই সাইবার প্রতারণার তদন্তে কলকাতায় নেমে বড়সড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশের সাইবার শাখা। পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৮টি পস মেশিন, ৬২টি এটিএম কার্ড, ১৪টি মোবাইল ফোন এবং ১০টি সিম কার্ড। উদ্ধার হওয়া বিপুল সংখ্যক এটিএম কার্ড ও পস মেশিন ঘিরে একটি সংগঠিত সাইবার প্রতারণা চক্রের যোগসূত্রের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সাইবার থানায় দায়ের হওয়া একটি প্রতারণার মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই কলকাতায় পৌঁছন পুলিশের একটি দল। ৩ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া এফআইআরের তদন্তে ১১ সেপ্টেম্বর পূর্ব যাদবপুর থানায় আসে দিল্লি পুলিশের দলটি। দলের নেতৃত্বে ছিলেন SI নীরজ কাকরালিয়া। সঙ্গে ছিলেন তিন হেড কনস্টেবল।
স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় প্রথমে বিভিন্ন জায়গার CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সেই ফুটেজের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের গতিবিধি চিহ্নিত করার পর নির্দিষ্ট জায়গায় হানা দেয় পুলিশ। অভিযানে আটক করা হয় তিনজনকে।
ধৃতরা হল বিহারের জেহানাবাদ জেলার বাসিন্দা ভারত বিশাল (২৮), ইন্দ্রজিৎ কুমার ওরফে রোশন (৩০) এবং বিরাজ কুমার। তদন্তকারীদের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা বিভিন্ন এটিএম থেকে তোলা হয়েছিল। সেই টাকা তোলার ক্ষেত্রে কানাড়া ব্যাঙ্ক, বন্ধন ব্যাঙ্ক এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের এটিএম ব্যবহার করা হয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে।
অভিযানের সময় ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৬২টি এটিএম কার্ড, ৮টি পস মেশিন, ১৪টি মোবাইল ফোন এবং ১০টি সিম কার্ড। এত বিপুল সংখ্যক কার্ড ও পস মেশিন কেন এবং কীভাবে ব্যবহার করা হত, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও সিমের সূত্র ধরে তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মামলাটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪)/৩১৯ ধারায় রুজু হয়েছে। ধৃত তিনজনকে আলিপুরের সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন করবে দিল্লি পুলিশ। এরপর দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।