এলাকা দখলের লড়াইয়ে রক্তাক্ত বেলঘরিয়া, গ্যাংওয়ারে মৃত্যু কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজা দত্তের

Pic-SNS

আবারও দুষ্কৃতী তাণ্ডব। এবার বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে গ্যাংওয়ার। দুই দুষ্কৃতী দলের মধ্যে গুলির লড়াইয়ে প্রকাশ্যে খুন হল বেলঘরিয়ার কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজা দত্ত।

পুলিশ সূত্রে খবর, বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের খলিসাকোটায় সোমবার ভোররাতে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ, এলাকার ত্রাস রাজা দত্তের হাত থেকে রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় অপর পক্ষের এক দুষ্কৃতী। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রাজা। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

গ্যাংওয়ারে গুরুতর জখম হয়েছে রাজার আরও কয়েকজন শাগরেদ। তাঁদের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছে রাজার দুই শাগরেদও।


এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুই দলের মোট পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর প্রায় ৩টা নাগাদ রাজা দত্ত ও তার শাগরেদরা খলিসাকোটায় পৌঁছয়। একই সময়ে অন্য একটি দুষ্কৃতী দলও সেখানে আসে। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মূলত এলাকা দখল এবং তোলাবাজির টাকা নিয়ে বিবাদের জেরেই এই সংঘর্ষ। কথাকাটাকাটি থেকে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এরপর পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চলতে শুরু করে। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তবে তার আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় অপর দুষ্কৃতী দলটি।

রাজার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কোন কারণে বিবাদ গুলির লড়াইয়ে গড়ায়, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজার দলের দুই শাগরেদের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, বিরাটির বাসিন্দা রাজা দত্তকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। ঘটনার তদন্তে এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পাঁচ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় রাজার কাছেও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, আগে থেকেই খলিসাকোটা এলাকায় ওত পেতে ছিল দুষ্কৃতীরা এবং তারা রাজার পূর্বপরিচিত। রাজা তাঁর দুই সঙ্গীকে নিয়ে সেখানে পৌঁছনোর পর তাঁর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে গুলি করা হয়। হামলার পর অভিযুক্তরা কোন পথ দিয়ে পালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।