বারুইপুরে ১৩ বছর পর পুরনো পার্টি অফিসের দখল পেল সিপিএম

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পশ্চিমে পুরনো পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করল সিপিএম। প্রায় ১৩ বছর পর কাছারি বাজারের সেই কার্যালয়ে ঢুকে ফের সংগঠনের কাজ শুরু করলেন দলের নেতারা। তাঁদের দাবি, স্থানীয় মানুষের সমর্থনেই কোনও সংঘর্ষ ছাড়াই নিজেদের দপ্তরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৮৩ সালে তৈরি হওয়া এই পার্টি অফিস দীর্ঘদিন ধরে সিপিএমের দখলে ছিল। তবে ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর কয়েক বছরের মধ্যেই তৃণমূল ওই কার্যালয় দখল করে নেয় বলে অভিযোগ। এরপর টানা ১৩ বছর সেটি তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। এবার ফের রাজনৈতিক পালাবদলের পর সিপিএম সেই পুরনো দপ্তরে ফিরে এল।

বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী লায়েগ আলি বলেন, ‘আমরা দখলের রাজনীতি করি না। এটা আমাদেরই পুরনো পার্টি অফিস। তৃণমূল জোর করে দখল করেছিল। আমরা শুধু সেটা ফিরিয়ে নিয়েছি।’ তাঁর দাবি, দপ্তরের ভিতরে থাকা তৃণমূলের কাগজপত্র, পতাকা ও ব্যানার কোনওটাই নষ্ট করা হয়নি।


লায়েগ আলি জানান, ‘সব জিনিস আলাদা করে গুছিয়ে রাখা হয়েছে। তৃণমূল নেতাদের ফোন করে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কেউ আসেননি। আমরা নিজেদের পতাকা লাগিয়ে এখান থেকেই আবার দলের কাজ শুরু করেছি।’ তাঁর এই বক্তব্যে সংঘাত এড়িয়ে সংগঠন পুনর্গঠনের বার্তা স্পষ্ট।

এদিকে, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির খবরও সামনে আসছে। একাধিক এলাকায় সদ্য ক্ষমতা হারানো তৃণমূলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। আবার কিছু ক্ষেত্রে একই অভিযোগ তুলছে সিপিএমও। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে লেনিনের মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, সোনারপুর ও কুলতলির বিভিন্ন এলাকাতেও পার্টি অফিস দখল ও পতাকা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বারুইপুরের কাছারি বাজারে ১৩ বছর পর লাল ঝান্ডা উত্তোলনের ঘটনা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠছে, সেখানে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণভাবে পুরনো কার্যালয়ে ফেরা সিপিএমের জন্য নতুন করে সংগঠন গড়ার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।