বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতি ইস্যুতে স্পিকারের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার ইঙ্গিত আদালতের

Photo: File Photo

বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলল আদালত। মঙ্গলবার মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, স্পিকারের সিদ্ধান্তটি আপাতত স্থগিত রাখা যেতে পারে।

শুনানির শুরুতে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, ২৮ মে তারিখ মামলাটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। জবাবে বিচারপতি বলেন, ‘হলফনামা দাখিল করা সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বর্তমানে কোনও বিধানসভা অধিবেশন চলছে না। ফলে এখন নির্দিষ্ট সময়ের প্রশ্নও নেই।’

বিচারপতি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সকলেই বিধানসভার সদস্য এবং বিরোধী দলনেতা সবসময় বিরোধী শিবির থেকেই নির্বাচিত হন।’ তাঁর মতে, অধ্যক্ষর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা যেতে পারে। এ সময় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী জয়দীপ কর আদালতের কাছে অনুরোধ করেন, বিষয়টিকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ হিসেবে বিবেচনা করা হোক।


তবে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমি কীভাবে এমন একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিতে পারি যা বেআইনি?’ জবাবে জয়দীপ করের যুক্তি, এই ক্ষেত্রে সংবিধানের দশম তফসিল প্রযোজ্য নয়। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একই রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া প্রমাণ করতে হবে।

সেই সময় বিচারপতি বলেন, ‘কোনটি প্রকৃত রাজনৈতিক দল তা নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে। কে বিরোধী দলনেতা হবেন, সেই সিদ্ধান্ত অধ্যক্ষর।’ তবে সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগেই অধ্যক্ষ তড়িঘড়ি করে দলের একটি অংশকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ঘোষণা করে একজনকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যা আদালতের কাছে বোধগম্য নয়।

এর জবাবে জয়দীপ কর সুপ্রিম কোর্টের একনাথ শিন্ডে মামলার রায়ের উপর নির্ভর করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির আবেদন নির্বাচন কমিশনের কাছে বিচারাধীন। যখন কোনও দলত্যাগ-বিরোধী আবেদন বিচারাধীন থাকে না, তখন সংবিধানের দশম তফসিল প্রযোজ্য হতে পারে না। এই মামলাতেও এমন কোনও আবেদন বিচারাধীন নেই।’

জয়দীপ করের এই বক্তব্যের পর বিচারপতির মন্তব্য, ‘এটি সঠিক।’ আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামীকাল বেলা ৩টের সময় নির্ধারণ করেছে।