শর্তসাপেক্ষে কালীঘাট তৃণমূলের মিছিলে অনুমতি, পুলিশের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন হাইকোর্টের

Photo: Representational Image

৮ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নির্ধারিত মিছিলে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল করা যাবে। তবে ট্রাফিক চলাচল ব্যাহত করা যাবে না। রাস্তার এক দিক খোলা রাখতে হবে এবং বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যেই কর্মসূচি শেষ করতে হবে।

মিছিলে সর্বাধিক এক হাজার মানুষ অংশ নিতে পারবেন। হ্যান্ড মাইক ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আয়োজকদের ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। কোনও প্ররোচনামূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ৬ জুলাই ইমেলের মাধ্যমে কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হলেও তা নাকচ করা হয়। তাঁর দাবি, একই ধরনের আবেদন বারবার খারিজ করা হয়েছে। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা পর্যন্ত নির্ধারিত রুটে কোনও হাসপাতাল নেই এবং ছাত্র-যুবদের এই কর্মসূচিতে অনুমতি না দেওয়া হলে তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।


রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, আবেদনপত্রে মিছিলের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা হয়নি। কলকাতা পুলিশের পোর্টালে অন্তত ১৫ দিন আগে আবেদন করার বিধি রয়েছে বলেও তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট রুট অত্যন্ত ব্যস্ত এবং ওই এলাকায় হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় জনস্বার্থের বিষয়টিও বিবেচনা করা জরুরি।

শুনানির সময় বিচারপতি একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, বিকল্প রুটে বা সময় পরিবর্তন করে মিছিল করা সম্ভব কি না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও মিছিল করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার খর্ব করা যায় না। একই সঙ্গে বিচারপতি বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচল এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার কথাও সমানভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে।

আদালত আরও জানায়, আবেদনপত্রে এমন কোনও ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে অনুমতি বাতিল করা যৌক্তিক হতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে পশ্চিমবঙ্গ যুব তৃণমূল কংগ্রেসকে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মিছিল চলাকালীন হাজরা মোড় এলাকায় যান চলাচল যাতে সম্পূর্ণ বন্ধ না হয়, তার ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও আয়োজকদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।