যুদ্ধের আবহে আগস্টের শুরুতেই ভারতে কমলো বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমাল তেল বিপণন সংস্থাগুলি। আজ থেকে কলকাতার বাজারে প্রতি সিলিন্ডারে ২০৯ টাকা ও দিল্লিতে ২০২ টাকা দাম কমানো হয়েছে। তবে ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। ১ আগস্ট, শনিবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রের দাবি, দাম কমার পরে দিল্লিতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হয়েছে ২,৭২৮ টাকা ও কলকাতায় ২,৮৭২.৫০ টাকা। তবে এই মূল্য কমার সুবিধা শুধুমাত্র ব্যবসায়িক গ্রাহকরা পাবেন। ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দামে পরিবর্তন হয়নি। তাই কলকাতায় ডোমেস্টিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮ টাকা ও দিল্লিতে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম রয়েছে ৯৪২ টাকা।
এর আগে ১ জুলাইতেও বাণিজ্যিক এলপিজির দাম ১৮৩.৫০ টাকা কমানো হয়েছিল। এছাড়া ৫ কেজির ফ্রি ট্রেড এলপিজি সিলিন্ডারের দামও ১৩ টাকা কমানো হয়। রেস্তোরাঁ, হোটেল, চায়ের দোকান, ক্যাটারিং সংস্থা ও রাস্তার খাবারের দোকানগুলিতে মূলত বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। তাই দাম কম হওয়ায় ব্যবসায়ীদের খরচ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ওবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে এলপিজির দাম একাধিকবার বেড়েছিল। জুন মাসে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা বাড়ানো হয়। মার্চ মাসেও প্রতি সিলিন্ডারে ৬০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। এপ্রিল মাসে বাণিজ্যিক এলপিজির দামও অনেকটাই বাড়ানো হয়।
বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমতেই বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আন্তজার্তিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস ও পেট্রোলের দাম বাড়ে বা কমে। তারপরেও সাধারণ মানুষের কথা ভেবে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।’ অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক ছোট ব্যবসায়ী দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি জানান, বাণিজ্যিক এলপিজির দাম এখনও অনেক বেশি। তাঁর দাবি, ছোট ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য ভবিষ্যতে আরও দাম কমানো উচিত।
এর আগে সরকার বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহের কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেছিল। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল। এর প্রভাব এসে পড়েছিল ভারতে গ্যাস আমদানিতে। দাম বেড়েছিল রান্নার গ্যাসের। জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক হতেই আগের তুলনায় ব্যবসায়ীদের কাছে এলপিজি সরবরাহ আরও সহজ হয়েছে।