গত ২৪ জুন তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত ও আহতদের পরিবারের হাতে মোট ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান তুলে দেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়েই সরকারের দায়িত্ব শেষ হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আজীবন চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৬ জন শ্রমিকের পরিবারের প্রত্যেককে ১০ লক্ষ টাকা করে এককালীন অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪ লক্ষ টাকা এসডিআরএফ এবং ৬ লক্ষ টাকা রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহত ১৭ জনকে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে।
তারাতলার দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার ও তৎকালীন পুর প্রশাসনের গাফিলতির ফলেই অতীতে পোস্তা, মাঝেরহাট, গার্ডেনরিচ, বড়বাজার ও তিলজলার মতো একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজ্যবাসীকে এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি দিতে চাই।’
উদ্ধারকাজের দ্রুততার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুঘটনার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দা, কলকাতা পুলিশ, পুরসভা ও দমকল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
দুই ঘণ্টার এনডিআরএফ, এসডিআরএফ এবং ভারতীয় সেনাও উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। গ্রিন করিডোর তৈরি করে আহতদের এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় ১৭ জনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হলেও ১৬ জনকে বাঁচানো যায়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।অনুষ্ঠানে নিহত শ্রমিক পাপ্পু কুমার রোজোকের স্ত্রী শিউলি রোজকে কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তাঁদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য শ্রম দপ্তরের ১শতাংশ সেস ফান্ড থেকে মাসিক আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টি দেখভালের জন্য মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে নিহতদের সন্তানদের শিক্ষা ও প্রয়োজন হলে সরকারি হস্টেলে থাকার সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছে সরকার। পরিবারের যোগ্য সদস্যদের কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি আহতদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য সেল গঠন করে তাঁদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ আজীবন বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলায় দুযোগ মোকাবিলা বিভাগকে আরও আধুনিক করতে অতিরিক্ত বাজেট, উন্নত সরঞ্জাম এবং সিভিল ডিফেন্স বাহিনীকে শক্তিশালী করার কাজও শুরু হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে।