চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে যাওয়ার অনুমতি মিলবে কি না, সেই প্রশ্নেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। রাজনৈতিক ও আইনি মহল সকলের নজর রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের উপরে। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট সাতদিনের মধ্যে বিষয়টি বিবেচনার নির্দেশ দেয়। এরপরে কলকাতা হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়, বুধবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবে হাইকোর্টে।
মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নিজেই রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদারকে ডেকে জানান, সংবাদমাধ্যমে তিনি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের কথা জেনেছেন। সেই কারণেই মামলাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বুধবারের কজলিস্টের একেবারে শুরুতে রাখা হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চোখের জটিল সমস্যার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানান তিনি। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে উঠলেও শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, যেহেতু মামলাটি ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে বিচারাধীন, তাই দ্রুত শুনানি করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই যথাযথ হবে। সেই সঙ্গে শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টকে নিদের্শ দিয়ে জানায় যাতে এক সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার শুনানি শেষ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, অভিষেকের বিদেশযাত্রার বিরোধিতা করেছে রাজ্য সরকার। তাদের বক্তব্য, সাংসদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিলে তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, প্রথমে এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের কাছে অভিষেককে পরীক্ষা করাতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামতে যদি উঠে আসে যে কলকাতায় এই চিকিৎসা সম্ভব নয় এবং বিদেশে চিকিৎসাই একমাত্র বিকল্প, তবেই আদালত সেই আবেদন বিবেচনা করবে। যদিও অভিষেকের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলের দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকায় একই সমস্যার চিকিৎসা চলছে।
ফলে বুধবারের শুনানি শুধু একটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত আবেদন নয়, আদালতের বিবেচনায় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, বিচারাধীন মামলা এবং আইনি শর্ত, এই তিনের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে। এখন দেখার কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসার অনুমতি দেয় কি না।