আরজি কর-কাণ্ডে নতুন করে তদন্তের গতি বাড়াল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্যাতিতার পরিবারের তরফে উত্থাপিত ৫৪টি বিষয় খতিয়ে দেখার আবেদনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৬টি বিষয় নিয়ে তদন্ত এগিয়েছে বলে আদালতে জানাল সিবিআই। সেই তদন্ত শেষ করতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে আর চার সপ্তাহ নয়, তিন সপ্তাহ সময় দিলেন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ফের মামলাটির শুনানি হবে।
শুক্রবার রুদ্ধদ্বার কক্ষে আরজি কর মামলার শুনানি হয়। সেখানেই দ্বিতীয় দফার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সিবিআইয়ের কাছে জানতে চায় আদালত। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, পরিবারের আবেদনে থাকা ৫৪টি বিষয়ের মধ্যে ১৬টি বিষয় চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তদন্তের পরিধি যে বেশ বিস্তৃত, তা সিবিআইয়ের বক্তব্যেই স্পষ্ট। ঘটনার রাতে আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন যে ডেলিভারি বয়, তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে খাবার খাওয়া চার চিকিৎসকের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে সিবিআই।
তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হল নির্যাতিতার বাবা-মাকে কিছু রাজনৈতিক নেতৃত্বের তরফে অর্থ দেওয়া হয়েছিল কি না। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেও তদন্ত চলছে। অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
তবে তদন্ত আর দীর্ঘায়িত করতে রাজি নয় আদালত। সিবিআই আরও চার সপ্তাহ সময় চাইলেও সেই আবেদন পুরোপুরি মঞ্জুর করেনি বেঞ্চ। তিন সপ্তাহের মধ্যেই ‘পুনরায় তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।
শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। বিচারপতিরা স্পষ্ট করে দেন, তদন্তের শেষে আদালত একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চায়। নতুন করে অসংখ্য তথ্য বা অতীতের ইতিহাস টেনে তদন্তকে দীর্ঘায়িত করার প্রয়োজন নেই বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত।
আরজি করের ঘটনায় প্রথমে তদন্ত করেছিল কলকাতা পুলিশ। মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতারও করেছিল তারাই। পরে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চার্জশিটে সঞ্জয় রায়কেই একমাত্র অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করে। শিয়ালদহ আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পান।
কিন্তু তদন্তে সন্তুষ্ট হয়নি নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতেই হাই কোর্টের নির্দেশে শুরু হয়েছে এই ‘ফারদার ইনভেস্টিগেশন’। এবার সেই তদন্তের শেষ প্রান্তে পৌঁছতে সিবিআইকে বেঁধে দেওয়া হল মাত্র তিন সপ্তাহের সময়।