হাইকোর্টের নির্দেশে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার পর সেই জায়গাতেই ফের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে! এমন গুরুতর অভিযোগে পুরসভার আইনজীবীর গা-ছাড়া মনোভাব নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে শেষ পর্যন্ত পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে তলব করতে হয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চকে।
শুক্রবার শুনানিতে আদালতে হাজির হন পুর কমিশনার। তাঁকে তলব করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি তাঁর মহারাষ্ট্রের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। মুম্বই, থানে, কল্যাণ-ডম্বিভলি, নবি মুম্বই-সহ ৮-১০টি পুর নিগম সংক্রান্ত মামলার অভিজ্ঞতা থেকে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুর কমিশনারের কাছে শহরের সমস্ত তথ্য পৌঁছয় না।
তাঁকে নির্দিষ্ট কিছু তথ্যই জানানো হয়। ফলে শহরের কোথায় কী ঘটছে, তার অনেকটাই কমিশনারের অজানা থেকে যায়। এই মামলায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর বলে মন্তব্য করে আদালত।
প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সারকথা, এতটা গুরুতর ঘটনা ঘটার পরও পুরসভার আইনজীবী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন—এই পরিস্থিতি আদালতকে কমিশনারকে তলব করতে বাধ্য করেছে।
আদালতের স্পষ্ট বার্তা, হাইকোর্টের নির্দেশে কোনও বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার পর ওই জায়গায় যাতে ফের নির্মাণকাজ শুরু না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। শুধু বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেললেই প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ভাঙা জায়গায় ফের বেআইনি নির্মাণ রুখতে কার্যকর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।
আগামী ১৪ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিন হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার ইতিবাচক রিপোর্ট রাজ্যকে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ।