বারুইপুর কাণ্ডে সিপিএম নেতা লায়েক আলির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আবেদনে হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়ে জানান, অভিযুক্ত অন্তবর্তী জামিনে রয়েছেন। তাই এখন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া যাবে না।
এদিন লায়েকের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতকে বলেন, ‘জামিন নয় এফআইআর খারিজ চাইছি। এই তদন্ত চলা যায় না। চারটে এফআইআর করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলার পরেই আমাকে টার্গেট করা হল। জামিনের আবেদনের সঙ্গে এফআইআর খারিজ সংযুক্ত নয়। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও এফআইআর করা হয়নি লায়েক আলির বিরুদ্ধে।’
এরপরে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, ‘জামিন থাকলে এফআইআর খারিজের বিষয়ে আদালত কীভাবে হস্তক্ষেপ করবে? গ্রেপ্তারের পর এফআইআর খারিজ? অন্তর্বর্তী নির্দেশ কীভাবে দেওয়া যাবে?’ অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, এই ঘটনায় তিনি কীভাবে ওতোপ্রতভাবে জড়িত তা একবার দেখুন। রেস্পন্ডেন্ট নম্বর ৬-কে কেন পার্টি করা হয়েছে? তিনি এর সঙ্গে কীভাবে সংযুক্ত?
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ, অন্তবর্তী জামিন থাকাকালীন অভিযুক্তের পক্ষে কোনও অন্তবর্তী নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। এফআইআরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পুজোর ছুটির পর রাজ্য হলফনামা দেবে। পাল্টা ২ সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দেবে আবেদনকারী। রেস্পন্ডেন্ট নম্বর ৬-কে পার্টি হিসেবে সংযুক্ত করার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।
উল্লেখ্য, বারুইপুর-কাণ্ডে দীর্ঘ সময় জেলে থাকার পর মায়ের গুরুতর অসুস্থতার কারণে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছিলেন সিপিএম নেতা লায়েক আলি। কিছুদিন আগে সেই জামিনের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। বিভিন্ন জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদও করা হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। অভিযোগ, সেই সময়ে বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলারও অভিযোগ ওঠে।
সেই সময় পুরো বিষয়টি নিয়ে মামলা রুজু করে বারুইপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পুলিশ তদন্তে নামার পরেই বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে সিপিএম নেতা লায়েক আলির নাম উঠে আসে। তদন্তকারীদের দাবি, বিক্ষোভের সময়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। এমনকী সেখানে উত্তেজনা ছড়ানোর পিছনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
আরও পড়ুন: পুজোর আগেই জট কাটল বাগবাজারের, কমিটি গঠনে নিম্ন আদালতের রায় বহাল হাইকোর্টের
যদিও সেই সময় লায়েক আলি দাবি করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সমস্তটা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছিলেন। এরপরই নিজের নিরাপত্তার দাবিতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।