তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনার পরই শহরের বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান শুরু করল নতুন রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিলজলা এলাকায় নামানো হল বুলডোজার। কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি যৌথভাবে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু করেছে। এলাকায় আনা হয়েছে একাধিক বুলডোজার এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। ইতিমধ্যেই দু’টি বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, শহরে বেআইনি নির্মাণ এবং অবৈধ কারখানার ক্ষেত্রে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যেখানে বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান নেই, সেখানে জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। বেআইনি কারখানা কোনওভাবেই চলতে দেওয়া হবে না।’
মঙ্গলবার তপসিয়ার ৫০/১ জিজে খান রোডের একটি বহুতলে ভয়াবহ আগুন লাগে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ভবনের একাংশে চামড়াজাত সামগ্রী মজুত এবং উৎপাদনের কাজ চলত। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক তৈরি হয় গোটা এলাকায়। ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েক জন দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কলকাতা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, আগুন এবং ঘন ধোঁয়া থেকে বাঁচতে কয়েক জন একটি শৌচাগারের ভিতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাঁচতলা ওই ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কারখানা চলত। উপরের তলায় মালিকের থাকার ব্যবস্থা ছিল এবং নিচতলায় ছিল গ্যারাজ।
অগ্নিকাণ্ডের পর চারটি দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বুধবার সেই রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরে জমা পড়ে। তদন্তে উঠে আসে, ভবনটির কোনও অনুমোদিত নকশা ছিল না। দমকল দপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি। এমনকি অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই কারখানা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে।
এরপরই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশে তিলজলা, কসবা এবং সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি শিল্প ইউনিটগুলির বিরুদ্ধে বড় অভিযান শুরু হয়েছে। অনুমোদনহীন কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জল সংযোগ বন্ধ করে কাঠামো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন এলাকায় বুলডোজার নামতেই উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েক জন স্থানীয় বাসিন্দা ভাঙার কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। গোটা এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কারখানার মালিক-সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি ভাবে চলা কারখানা এবং ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও এই অভিযান চলবে।