বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বেলেঘাটা আসন ঘিরে ক্রমশই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। লাগাতার বিক্ষোভ, হাতাহাতি ও উত্তেজনার আবহে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর, কর্মী-সমর্থকদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ওই আসনে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে।
বর্তমানে বেলেঘাটা আসনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে পার্থ চৌধুরীর নাম। এই আসনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ কুণাল ঘোষকে। তবে বিজেপির অন্দরে পার্থ চৌধুরীকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ প্রকাশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। দলীয় কর্মীদের অভিযোগ, এই প্রার্থী নির্বাচনের ফলে প্রতিপক্ষকে সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই একাধিকবার পার্থ চৌধুরীর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে সল্টলেকে দলের দপ্তরের সামনেও কর্মীরা বিক্ষোভে সামিল হন।
এই বিক্ষোভ সামাল দিতে ময়দানে নামতে হয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়কে কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিতে দেখা যায়। পাশাপাশি রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কর্মীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই আবহে সামনে আসছে নতুন জল্পনা। দলীয় সূত্রের দাবি, পার্থ চৌধুরীর পরিবর্তে প্রার্থী করা হতে পারে অর্চনা মজুমদারকে। তিনি বর্তমানে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য। যদি তাঁকে প্রার্থী করা হয়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে সেই পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। বিজেপির মহিলা মোর্চার প্রথম সারির মুখ হিসেবেও একসময় পরিচিত ছিলেন তিনি।
শুধু বেলেঘাটা নয়, রাজ্যের আরও একাধিক আসনে একই ধরনের অসন্তোষ সামনে আসছে। আলিপুরদুয়ার, রানাঘাট-সহ বিভিন্ন বিধানসভায় প্রার্থী বদলের দাবি তুলছেন কর্মী-সমর্থকরা। ফলে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সংগঠনের ভিতরে এই ক্ষোভ সামাল দেওয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের অন্তর্দ্বন্দ্ব কোনও দলকেই অস্বস্তিতে ফেলে। এখন দেখার, বেলেঘাটা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি এবং তা অন্য আসনগুলিতেও প্রভাব ফেলে কি না।