স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে নকশাল ও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পরের দিনই সেই প্রসঙ্গ তুলে পশ্চিমবঙ্গেও ‘আরবান নকশাল’-এর উপস্থিতির অভিযোগ করলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, শুধু ছত্তীসগঢ় বা ঝাড়খণ্ড নয়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও ‘শিক্ষিত নকশাল’ বা ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন ইস্যুকে হাতিয়ার করে তাঁরা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রবিবার অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আরবান নকশালরা পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে রয়েছে। কলকাতাতেও ছড়িয়ে আছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্লিপার সেল হিসেবে রয়েছে।” তাঁর আরও দাবি, “শুধু ছত্তীসগঢ় বা ঝাড়খণ্ডে নয়, গোটা ভারতে ছড়িয়ে রয়েছে এই ধরনের শিক্ষিত, ইন্টেলেকচুয়াল নকশাল। যাঁরা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত করছেন।”
ছাত্রদের আন্দোলন বা তাঁদের নিজস্ব ইস্যু নিয়ে আপত্তি নেই বলেও জানান পুরমন্ত্রী। তবে তাঁর প্রশ্ন, “কাশ্মীর কো আজাদি দো” কেন বলা হবে? তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের স্লোগান ও প্রচারের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মনে ‘বিষ’ ঢুকিয়ে তাঁদের দিকভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও মাওবাদীদের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তিনি বলেন, মাওবাদীরা লক্ষ লক্ষ যুবকের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বহু মায়ের কোল খালি হয়েছে, ভেঙে চুরমার হয়েছে বহু বাবা-মায়ের স্বপ্ন। চার দশক ধরে বন্দুকের নলে ভয় দেখানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, মাওবাদীরা সংবিধানকে মানেনি এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বহু পুলিশকর্মীর প্রাণ গিয়েছে।
মাওবাদ দমনে কেন্দ্র যে আরও সক্রিয়, সেই বার্তা আগেই দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সম্প্রতি বাংলায় মাওবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
লালকেল্লার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অস্ত্রধারী মাওবাদী শেষ হয়েছে। কিন্তু দিমাগি নকশালরা সুযোগের অপেক্ষায় আছে। সমাজকে ভুল পথে চালনা করার জন্য বসে আছে।” তাঁদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে আলাদা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। সেই বক্তব্যেরই সূত্র ধরে রবিবার ‘আরবান নকশাল’ প্রসঙ্গ সামনে আনলেন অগ্নিমিত্রা।
তবে শুধু নকশাল ইস্যু নয়, এদিন কলকাতার ফুটপাথ দখলমুক্ত করা নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। ধর্মতলার পর এবার পার্ক স্ট্রিটকেও হকারমুক্ত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য ধর্মতলা ‘পরিষ্কার’ করার বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ধর্মতলা থেকে সরে যান। ওটা কলকাতার বুক।” দলের দুই কাউন্সিলর ও এক বিধায়ককে ধর্মতলা দখলমুক্ত করার দায়িত্বও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, এর জন্য আলাদা কোনও নির্দেশের প্রয়োজন নেই, এটি দলের ঘোষিত অবস্থান।
তার পরের দিনই সেই বার্তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে পার্ক স্ট্রিট নিয়েও সিদ্ধান্তের কথা জানালেন অগ্নিমিত্রা পাল। কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, শুধু ধর্মতলা নয়, পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথও খালি করা হবে। চৌরঙ্গি থেকে সেভেন পয়েন্ট কানেক্টর পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে কোনও হকারকে বসতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
অগ্নিমিত্রা বলেন, “পার্ক স্ট্রিট হল কলকাতার জানালা। সেটাকে সুন্দর করে সাজাব। আলো লাগাব, সুন্দর করে পেভমেন্ট করব। হকার থাকবে না। হকাররা অন্য জায়গায় বসুন।”
হকারদের উদ্দেশে পুরমন্ত্রীর আবেদন, “হকার যারা আছেন, তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কিন্তু আপনারা অন্য জায়গায় বসুন।” অর্থাৎ ধর্মতলার পর এবার কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথ দখলমুক্ত করাকেই পাখির চোখ করছে রাজ্য সরকার।