বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে ভবানীপুর কেন্দ্রে আলাদা ইস্তাহার প্রকাশ করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ‘বিকশিত ভবানীপুর’ নামে এই পৃথক ইস্তাহার প্রকাশ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নকে উপেক্ষা করে কেন একটি কেন্দ্রকে আলাদা করে তুলে ধরার প্রয়োজন হল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে গিয়েই এই কৌশল নিয়েছে বিজেপি। তবে তৃণমূল শিবিরের দাবি, ‘ভবানীপুর তো বহুদিন ধরেই উন্নয়নের নজির তৈরি করেছে। নতুন করে প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন নেই, মানুষ নিজের চোখেই কাজ দেখছেন।’
ইস্তাহারে চারটি মূল প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে— পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং যুবকল্যাণ। কিন্তু তৃণমূলের বক্তব্য, এই সমস্ত ক্ষেত্রেই ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে। পুর পরিষেবা থেকে শুরু করে জলনিকাশি, রাস্তা সংস্কার— একাধিক প্রকল্পে ভবানীপুরে উন্নয়নের ছাপ স্পষ্ট।
এদিকে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে বিরোধী শিবিরের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর। হাজরা মোড় থেকে রোড শো করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘বাইরের নেতাদের এনে প্রচার করলেও স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করাই আসল চ্যালেঞ্জ।’
ইস্তাহারে ব্যবসায়ীদের জন্য তোলাবাজিমুক্ত পরিবেশ, মহিলাদের নিরাপত্তা, অবৈধ নির্মাণ বন্ধের মতো প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের পাল্টা দাবি, ‘রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট মজবুত, এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশেই বসবাস করছেন।’ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আদিগঙ্গার সংস্কার, বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানের উন্নয়ন, কুমোর ও মৃৎশিল্পীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, ‘রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই শিল্পী ও সংস্কৃতিকে রক্ষায় একাধিক প্রকল্প চালু করেছে, যা সারা দেশে প্রশংসিত।’
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। তবে তৃণমূলের নেতাদের মতে, ‘উন্নয়নই শেষ কথা, আর সেই উন্নয়নেই ভরসা রাখছেন মানুষ।’