বারাসতে সরস্বতী পুজো নিয়ে ভুয়ো প্রচারের জবাব বাংলার পুলিশের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

উত্তর ২৪ পরগণার বারাসতের একটি স্কুলে সরস্বতী পুজো বন্ধ করার জন্য প্রশাসন ও পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর বলে স্পষ্টভাবে খারিজ করে দিল রাজ্য পুলিশ। শনিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বারাসত জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের প্রচার সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই ছড়ানো হচ্ছে।

বারাসত জেলা পুলিশের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে বলা হয়েছে, ‘আমাদের নজরে এসেছে যে, বারাসত পুলিশ জেলার আওতাধীন একটি স্কুলে সরস্বতী পুজো সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেখানে বিভ্রান্তিকর ও ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজ্যের সামাজিক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।’

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরস্বতী পুজো বা কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য প্রশাসন কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও নির্দেশই দেওয়া হয়নি। পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সবসময়ই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মনীতি এবং আইনি কাঠামোর মধ্যেই নেওয়া হয়। এর বাইরে কোনও প্রশাসনিক বা পুলিশি হস্তক্ষেপ করা হয় না।’


এই ঘটনায় সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকার বার্তাও দিয়েছে পুলিশ। নাগরিকদের উদ্দেশে অনুরোধ করা হয়েছে, যাচাই না করা কোনও তথ্য, উসকানিমূলক লেখা বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার না করতে। একইসঙ্গে এই ধরনের ভুয়ো বা উত্তেজনামূলক পোস্ট চোখে পড়লে অবিলম্বে তা প্রশাসন ও পুলিশের নজরে আনার জন্য বলা হয়েছে।

বারাসত জেলা পুলিশের বক্তব্যে আরও জানানো হয়েছে, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো যে কোনও ভুয়ো প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ধরনের কুপ্রচার ও মিথ্যা গল্প নজর এড়িয়ে যাবে না।’ পুলিশের মতে, সামাজিক মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয় এবং অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত বারাসতের ময়না এলাকার ময়নাগড়ি ফ্রি প্রাইমারি স্কুলকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলে সরস্বতী পুজো অনুষ্ঠিত হয়নি। চলতি বছর স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রছাত্রীরা স্কুল প্রাঙ্গণেই পুজো আয়োজনের পরিকল্পনা করেন। অভিযোগ ওঠে, পুজোর সকালে প্রতিমা নিয়ে পৌঁছনোর পর স্কুলের গেট বন্ধ দেখা যায়, যার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে প্রচার শুরু হয়— পুলিশ নাকি পুজো করতে বাধা দিয়েছে।

তবে পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা বা পুলিশি নির্দেশের কোনও সম্পর্ক নেই। বিষয়টিকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়ো গল্প তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে বলেই মত পুলিশের।

সব মিলিয়ে, বারাসতে সরস্বতী পুজো নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পিছনে যে বাস্তব তথ্য নয়, বরং বিভ্রান্তিকর প্রচার কাজ করছে— তা স্পষ্ট করে দিয়েছে জেলা পুলিশ। প্রশাসনের তরফে বার্তা একটাই— ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সমাজে শান্তি বজায় রাখাই তাদের অগ্রাধিকার, আর সেই শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।