বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বারাসাত কেন্দ্রে বিজেপির অন্দরে তীব্র গোষ্ঠী কোন্দল সামনে এল। রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তর থেকে প্রার্থী ঘোষণার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রার্থী হিসেবে শংকর চ্যাটার্জির নাম ঘোষণার পর তাঁর বিরুদ্ধেই দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পোস্টারে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগ ঘিরেই বিজেপির একাংশের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপির প্রার্থী ছিলেন শংকর চ্যাটার্জি। সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন তিনি। তবে বিজেপির একাংশের অভিযোগ, নির্বাচনের সময়ই তিনি আচমকা লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। বিষয়টি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ ওঠে। যদিও এই অভিযোগের সরাসরি কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও তা নিয়ে বিতর্ক থামেনি।
বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের দাবি, ওই সময়ের ঘটনাই দলের মনোবলে বড় ধাক্কা দেয়। এর প্রভাব ভোট বাক্সেও পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এবার ২০২৬ সালের নির্বাচনে ফের শংকর চ্যাটার্জিকে প্রার্থী করা হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। বিজেপির একাংশের দাবি, এই সিদ্ধান্তে জয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা হাতছাড়া হতে পারে।
বিক্ষুব্ধ কর্মীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অবিলম্বে প্রার্থী পরিবর্তন না করা হলে তাঁরা জনতার কাছে ক্ষমা চেয়ে ভোটদানে বিরত থাকার আবেদন জানাবেন। এই পরিস্থিতিতে বারাসাত কেন্দ্রে বিজেপির অন্দরের দ্বন্দ্ব কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।