তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার বরাহনগরের তৃণমূল কাউন্সিলর ‘মেজো’

প্রতীকী চিত্র

তোলাবাজি এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল বরাহনগরের তৃণমূল কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার ওরফে ‘মেজো’-কে। বুধবার ব্যারাকপুর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। শান্তনু বরাহনগর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বরাহনগরের বাসিন্দা রীতা রায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ফ্ল্যাটের ভাড়াটে সংক্রান্ত সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন শান্তনু মজুমদার। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দফায় দফায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। অভিযোগকারিণীর দাবি, সমস্যা সমাধানের নাম করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।

শুধু তাই নয়, অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটে জোর করে ভাড়াটে বসানোর চেষ্টাও করেছিলেন ওই কাউন্সিলর। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন রীতা রায়। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরা। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। এরপর অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শান্তনু মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে জোর করে বাড়িতে প্রবেশ, তোলাবাজি, ভয় দেখানো এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতকে আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় বরাহনগরের রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠছিল ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। যদিও তৃণমূলের তরফে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।