নিমতায় ভুয়ো নথি নিয়ে বসবাস, ৮ বাংলাদেশি-সহ গ্রেপ্তার ৯

উত্তর ২৪ পরগনার নিমতা এলাকায় ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসের অভিযোগে আট বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ এবং জাল নথি চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার নিমতার গোলবাগান এলাকায় এক ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে পুলিশের। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হলে এলাকায় অবৈধভাবে থাকা একাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে তথ্য মেলে। সেই সূত্র ধরেই রাতের দিকে ফতুল্লাপুর এলাকায় অভিযান চালায় নিমতা থানার পুলিশ।

অভিযানে আট বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে শহিদুল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে তিনি ওই বাংলাদেশিদের নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরেই ফতুল্লাপুরে বসবাস করছিলেন।


তদন্তকারীদের দাবি, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর ধৃতরা আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ডেবিট কার্ড এবং জন্ম শংসাপত্রের মতো একাধিক ভারতীয় নথি সংগ্রহ করেছিলেন। উদ্ধার হওয়া সমস্ত নথি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে বাংলাদেশের করোনা টিকাকরণের শংসাপত্রও উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, জেরায় ধৃতেরা স্বীকার করেছেন যে তাঁরা টাকার বিনিময়ে দালালদের সাহায্যে অবৈধ পথে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকেছিলেন। কীভাবে ভুয়ো নথি তৈরি করা হল এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, তা এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ধৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম সুমন গাইন, বাহারুল মণ্ডল, আব্দুল রহমান সর্দার, রিয়াজ মণ্ডল, ইলিয়াস সর্দার, জাহারা বিবি, আনোয়ারা বিবি এবং সুমি বিবি। সোমবার তাঁদের বারাকপুর আদালতে তোলা হবে। পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশ এবং জাল পরিচয়পত্র তৈরির বড় চক্র জড়িত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই তদন্ত এগোচ্ছে।