লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নিয়ে আরও কোনঠাসা অভিষেক

Image: FB/AbhishekBanerjeeOfficial

আরও চাপে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে বিতর্ক। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি)-র এক তদন্তে উঠে আসে, কীভাবে সংস্থার শেয়ার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে কেনাবেচা করে মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে লাভ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসকে ৭ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল সেবি।

সেবির তদন্তে অভিযোগ করা হয়, লগ্নিবাজারের লেনদেনে একাধিক অনিয়মের বিষয় সামনে আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে সেবি একজন তদন্তকারী আধিকারিক নিয়োগ করে। তদন্তে মূলত খতিয়ে দেখা হয়, সেবির রেগুলেশন ৩(এ), ৩(বি), ৩(সি), ৩(ডি) এবং ৪(১), ৪(২)(এ)-এর বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না। নিয়মভঙ্গের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তকারী আধিকারিক তাঁর প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলেন, লগ্নির সময় সংস্থা যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, তার ভিত্তিতেও জরিমানার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত কি না।

এতেই শেষ নয়। সেবির রিপোর্টে একগুচ্ছ লেনদেনের হিসেবও তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তত ৪৮টি লেনদেনে রিভার্সাল ট্রেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হওয়া ওই লেনদেনগুলি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করা হয়। তদন্ত চলাকালীন সেবি জানায়, মুম্বই স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ২ লক্ষ ৯১ হাজার ৬৪৩টি লেনদেনের মধ্যে প্রায় ৮১.৮৩ শতাংশ লেনদেনকে তারা চিহ্নিত করতে পেরেছে।


অভিযোগিত অনিয়ম খতিয়ে দেখে পিএফইউটিপি (PFUTP) বিধি অনুযায়ী লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের উপর ৭ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করে সেবি। সেই জরিমানা ৪৫ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। তবে সেই জরিমানা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরবর্তীকালে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের আর্থিক লেনদেন নিয়েও তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সংস্থার আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একটি প্রায় ৫ হাজার পাতার রিপোর্ট কলকাতা হাইকোর্টে জমা পড়ে। সেই মামলার তদন্ত এখনও চলছে।

বিধানসভা নির্বাচনের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে একাধিক থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ভূমিকা নিয়েও তদন্তকারী সংস্থাগুলি একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। তবে এই সমস্ত বিষয় তদন্তাধীন। অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তিও হয়নি।