আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অরূপ বিশ্বাসের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ল। এর আগে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ ছিল। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন আদালতে রাজ্য ডিআইজির রিপোর্টও জমা পড়ে।
এর আগে আদালত জানিয়েছিল, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে। পুলিশি নোটিসে সাড়া না দিলে বিষয়টি আদালতের নজরে আনতে পারবে পুলিশ। আদালতের অনুমতি ছাড়া অরূপ বিশ্বাস এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
গত বছর লিয়োনেল মেসিকে দেখার জন্য যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিপুল সংখ্যক দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন। বহু মানুষ টিকিট কিনেছিলেন মেসিকে দেখার জন্য। কিন্তু নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মেসি। দেশের অন্য তিন শহরে একই ধরনের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে হলেও কলকাতার অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই ঘটনায় শহরের সম্মানহানি হয়েছে বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল।
এর আগে আদালত প্রশ্ন করেছিল, অরূপ বিশ্বাস কি মেসির বাল্যবন্ধু? মেসির এত কাছে তিনি কেন গিয়েছিলেন? দেশের অন্য তিন শহরে অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে হলেও কলকাতায় কেন বিশৃঙ্খলা তৈরি হল, তা-ও জানতে চেয়েছিল আদালত।
শতদ্রু দত্তের আইনজীবী আদালতে দাবি করেছিলেন, ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাস একাই তাঁর বিধানসভার জন্য ২২ হাজার টিকিট নিয়েছিলেন। অনেক ক্লাবকে অরূপ বিশ্বাস টিকিট বিক্রি করেছিলেন বলেও দাবি করেছিলেন শতদ্রু দত্তের আইনজীবী।
এর আগে গ্রেফতারের আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মেসি-কাণ্ডে গ্রেফতারের আশঙ্কার কথা জানিয়ে হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অরূপের আইনজীবী কিশোর দত্ত। যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। অরূপ বিশ্বাস-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন শতদ্রু। তাঁদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় এফআইআর করা হয়।