মেসি মামলায় মঙ্গলবার সকালে বিধাননগর থানায় হাজিরা দিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী। এর আগে একাধিকবার নোটিস পেলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। পরে আদালতের নির্দেশ মেনে তদন্তে সহযোগিতা করতে দু’বার থানায় হাজির হয়েছিলেন। মঙ্গলবার ফের তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তলব করে।
এই মামলার অভিযোগকারী মেসিরর অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত। তাঁর অভিযোগ, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসিকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অরূপ বিশ্বাস প্রোটোকল ভেঙে বারবার মেসির কাছে চলে যান। তাঁর দাবি, প্রভাবশালীদের ভিড়ে মাঠে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে মেসি সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ আঘাত পান। এই ঘনটায় রদ্রিগো ডি’পলের হাতে চোট লাগে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় মেসির নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে দ্রুত মাঠ থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
এরপর গ্যালারিতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে টিকিট কেটে সাধারণ মানুষ মেসিকে দেখতে এসেছিল। মেসিকে কাছ থেকে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ মাঠে নেমে পড়েন। ফলে গোটা অনুষ্ঠান কার্যত ভণ্ডুল হয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ে করা হয়।
এক মামলায় গ্রেপ্তার হন অনুষ্ঠানেরর আয়োজক শতদ্রু দত্ত। অন্য মামলায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে শতদ্রুই অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারি, আর্থিক প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে এফআইআর দায়ের করেন।
এর আগে ১৮ ও ২২ জুন পুলিশের তলবে থানায় হাজিরা দিয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তিনি আদালতের রক্ষাকবচ পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তবে ওই সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না।