‘পদাতিক মানে পদচারী সৈনিক।’ রাখিবন্ধন উৎসবের দিন আরও একবার এই বার্তাই তুলে ধরল ‘আমরা পদাতিক’। রাখির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নতুন করে পথ চলার অঙ্গীকার করলেন সংগঠনের সদস্যরা।
মধ্য কলকাতার নীলমণি মিত্র স্ট্রিটে প্রায় ৫০০ জনকে রাখিবন্ধনে আবদ্ধ করল ‘আমরা পদাতিক’। এ বছর ২০তে পা দিল তাদের রাখিবন্ধন উৎসব। সকাল থেকেই উৎসবের আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছিল নীলমণি মিত্র স্ট্রিট। মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার হল এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে।
বড়দের পাশাপাশি এদিন উৎসবে মেতে উঠেছিল খুদেরাও। কচিকাঁচাদের খুনসুটি আর গালভরা হাসি ছিল দেখার মতো। অনুষ্ঠানের মধ্যেই নানা আয়োজনে অংশ নিয়ে তারাও আরও একবার প্রমাণ করল, বর্তমান সমাজে বড়দের সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে চলতে প্রস্তুত এই খুদেরাও।
নীলমণি মিত্র স্ট্রিটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, সঙ্গীতশিল্পী সোমলতা আচার্য এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উত্তরপুরুষ অধ্যাপক জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়।
‘আমরা পদাতিক’-এর সম্পাদক শতাব্দী সাহা বলেন, ‘রাখিবন্ধনের মধ্য দিয়ে উঠে যাক সব ধরনের বৈষম্য। বীরের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে চলুক নতুন প্রজন্ম।’
পুরাণ মতে, এই রাখীবন্ধনের গুরুত্ব অপরিসীম। মহাভারতে কথিত আছে, একটি যুদ্ধে কৃষ্ণের কবজিতে আঘাত লেগে রক্তপাত শুরু হলে পাণ্ডবদের স্ত্রী দ্রৌপদী তাঁর শাড়ির আঁচল খানিকটা ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন। এতে কৃষ্ণ রীতিমত অভিভূত হয়ে পড়েন। দ্রৌপদী তাঁর অনাত্মীয় হলেও তিনি দ্রৌপদীকে নিজের বোন বলে ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে দ্রৌপদীকে এর প্রতিদান দেবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। বহু বছর পরে পাশাখেলায় কৌরবেরা দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে গেলে কৃষ্ণ দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষা করে সেই প্রতিদান পূরণ করেছিলেন। এভাবেই শুরু হয়েছিল রাখীবন্ধনের।
যা আজ ভাই ও বোনের সম্পর্কের অন্যতম পবিত্র একটি অনুষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়। শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, দেশজুড়ে সকল ভাইদের কল্যাণার্থে আজকের পবিত্র দিনটি পালন করা হয়।