মুখ্যমন্ত্রীর আরতির পরে কলকাতায় শুরু ইসকনের রথযাত্রা, রাজপথে ভক্তদের ঢল

Photo: Statesman

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তিমূলক সঙ্গীত এবং উৎসবের আবহে কলকাতায় শুরু হল ইসকনের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত এই রথযাত্রায় অংশ নিতে সেখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন। সকাল থেকেই হরে কৃষ্ণ, হরে রাম মহামন্ত্রের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এদিন রথযাত্রা শুরুর আগে ইসকনে প্রভু জগন্নাথদেবকে আরতি করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Photo: Statesman

বৃহস্পতিবার সুসজ্জিত রথে জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে শোভাযাত্রা শুরু হয়। ফুল, আলোকসজ্জা ও নানা রঙের সাজে সজ্জিত রথ দেখতে রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। দেশ-বিদেশের বহু ভক্তও এই রথযাত্রায় অংশ নেন।

বৃষ্টির মধ্যেই রথের সামনে কীর্তন, মৃদঙ্গ, করতাল এবং নৃত্যের মাধ্যমে ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের নাম সংকীর্তনে মেতে ওঠেন। নারী, পুরুষ, শিশু থেকে প্রবীণ সব বয়সের মানুষ উৎসাহের সঙ্গে রথের দড়ি টেনে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, রথের দড়ি টানলে পুণ্য লাভ হয় এবং জীবনে শুভ ফল আসে।


Photo: Statesman

রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। রথটি হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট, এজেসি বসু রোড, শরৎ বসু রোড, হাজরা রোড, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড়, এক্সাইড ক্রসিং, জওহরলাল নেহরু রোড এবং আউট্রাম রোড হয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে শোভাযাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং সাধারণ মানুষেরও অসুবিধা না হয়।

Photo: Statesman

ইসকনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রথযাত্রা উপলক্ষে ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণ, ভজন-কীর্তন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শান্তি, সম্প্রীতি এবং মানবকল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই প্রতি বছরের মতো এ বছরও এই রথযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।

Photo: statesman

কলকাতার অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পরিচিত ইসকনের রথযাত্রা প্রতি বছরই অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভক্তদের উচ্ছ্বাস, আধ্যাত্মিক পরিবেশ এবং সুশৃঙ্খল আয়োজনে কলকাতার ইসকন রথযাত্রা উৎসবের সূচনা হয় অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে।