১৬ বছর আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নিদের্শে স্বস্তি প্রাক্তন পুলিশকর্তার

Photo: File Photo

উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের বাসিন্দা প্রণব দত্ত ১৯৭৮ সালে রাজ্য পুলিশে যোগদান করেন। এরপর তিনি ২০০০ সালে হাবড়া থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই বছরেই আগস্ট মাসে থানার লকাপ থেকে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে যান। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ আগস্ট নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে হাবরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

পুলিশি হেফাজত থেকে আসামি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন হাবরা থানার অফিসার ইনচার্জ এবং থানার অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ।

একদিকে বিভাগীয় তদন্ত চলছে, অন্যদিকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যক্তির পরিবারের করা এফআইআরের ভিত্তিতে শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট দিনেই চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। নিম্ন আদালতে মামলা চলাকালীন অফিসার ইনচার্জ প্রণব দত্ত চাকরি থেকে অবসর নেন। অবসর নেওয়ার পর তাঁর অবসরকালীন সমস্ত বকেয়া তাঁকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় সরকার কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ।


এরপর তিনি স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানান। যেহেতু প্রাক্তন পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা চলছে তাই তার অবসরকালীন ভাতা পাওয়ার কোনও অধিকার নেই বলেই জানিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ২০১৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্তা।

বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানি চলাকালীন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা প্রণব দত্তের পক্ষে আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী আদালতে জানান, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও গ্র্যাচুইটি সরকারের কোনও অনুদান নয় বা সরকারের দানের বিষয় নয়। সরকারি কর্মচারীদের এটা তাদের কর্মজীবনের অর্জিত সম্পত্তি। সেটা অনন্তকাল ধরে আটকে রাখা যায় না। মামলাকারী দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। বর্তমানে তার ডায়ালিসিস চলছে। সেক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলার অজুহাত দেখিয়ে তাঁর প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি।

বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ‘যে রুলের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারীর টাকা আটকে রাখা হয়েছে, তা অসংবিধানিক। তাই সরকারকে নির্দেশ দিচ্ছি, আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে গ্র্যাচুইটির সুদ সমেত টাকা মিটিয়ে দিতে হবে মামলাকারীকে।’