ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস উচ্ছেদে নিম্ন আদালতের নির্দেশে হস্তক্ষেপ নয়, কড়া পর্যবেক্ষণ হাই কোর্টের

Photo Source-ANI

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় নিম্ন আদালতের নির্দেশে আপাতত হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট। তবে নিম্ন আদালতের নির্দেশ নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ করেছে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিম্ন আদালত বিষয়টি অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে দেখেছে।

ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে বাড়ির মালিক লামা দেবী গোয়েঙ্কার করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এই আইনি জটিলতা তৈরি হয়। হাই কোর্টের নির্দেশ, নিম্ন আদালতকে দু’পক্ষের বক্তব্য যথাযথ ভাবে শুনতে হবে। পাশাপাশি, মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত আইনি বিষয়ও খতিয়ে দেখতে হবে। তারপরই নিতে হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

ততদিন পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে তাঁকে উচ্ছেদ করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। অর্থাৎ, নিম্ন আদালত নতুন করে দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং আইনি দিকগুলি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত অফিস নিয়ে কোনও উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো যাবে না।


ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিসকে ঘিরে এর আগে অন্য একটি ঘটনাতেও তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অফিসের ছাদে থাকা তৃণমূলের একটি বিলবোর্ড সরাতে কলকাতা পুরসভার কর্মীরা গেলে তাঁদের সঙ্গে পুলিশও ছিল। সেই সময় অফিসের ভিতরে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা বাধে। অভিযোগ, পুলিশকর্মীরা বাধা পেরিয়ে অফিসের ভিতরে ঢুকে পড়েন। অন্যদিকে, পুলিশের অভিযোগ ছিল, পুরকর্মীদের বিলবোর্ড সরানোর কাজে বাধা দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে একজনকে আটক করা হয়। পরে কলকাতা পুরসভার কর্মীরা বহুতলের ছাদে উঠে ওই বিলবোর্ড খুলে দেন। পুরসভার তরফে বিলবোর্ডটিকে অনুমোদনহীন বলে দাবি করা হয়েছিল।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে পুলিশি তদন্তও শুরু হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিসও দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে অফিস খালি করার নির্দেশ ঘিরেও আইনি জটিলতা তৈরি হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে দমকলের দেওয়া অফিস খালি করার নোটিস কলকাতা হাই কোর্টের একক বিচারপতির বেঞ্চ খারিজ করে দেয়। আদালত নতুন করে নোটিস দিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা এবং ফের পরিদর্শনের নির্দেশ দেয়।

ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ঘিরে একের পর এক আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে ফের আদালতের নজরে এল উচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়টি। এখন নিম্ন আদালত দু’পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আইনি দিকগুলি কী ভাবে বিবেচনা করে, সেদিকেই নজর।