সন্ত্রাস মামলার বিচারে কলকাতায় নতুন যুগ, একসঙ্গে দু’টি এক্সক্লুসিভ এনআইএ আদালতের উদ্বোধন

Photo: Statesman

সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলার বিচারে গতি আনতে কলকাতায় শুরু হল এক নতুন অধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল দু’টি এক্সক্লুসিভ ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) আদালতের। কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর হাত ধরে এই বিশেষ আদালত দু’টির সূচনা হয়। আইনজীবী মহলের মতে, এর ফলে এনআইএ-র তদন্তাধীন স্পর্শকাতর মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির পথ আরও সুগম হবে।

Photo: Statesman

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি শম্পা সরকার, বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্র, নগর দায়রা আদালতের মুখ্য বিচারক সুদীপ্ত কুমার দে, রাজ্যের আইন ও বিচার দপ্তরের মন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস, অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী, এনআইএ-র জয়েন্ট ডিরেক্টর, বিশেষ সরকারি আইনজীবী অরুণ কুমার মাইতি এবং আইনজীবী ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিচার বিভাগ ও তদন্তকারী সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা।

Photo: Statesman

নতুন দুটি আদালতের বিচারিক এক্তিয়ারের আওতায় থাকবে কলকাতা-সহ মোট ১৯টি জেলা—উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর প্রভৃতি। অন্যদিকে, শিলিগুড়ির অতিরিক্ত জেলা বিচারকের প্রথম আদালত শুধুমাত্র দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারের এনআইএ মামলার বিচার করবে।


Photo: Statesman

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এনআইএ-র তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা ও গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পৃথক এক্সক্লুসিভ আদালত চালু হওয়ায় সন্ত্রাসবাদ, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলার শুনানি আর সাধারণ ফৌজদারি মামলার সঙ্গে মিশে থাকবে না। ফলে বিচারপ্রক্রিয়া হবে আরও দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন এবং কার্যকর। তাঁদের মতে, কলকাতায় যেমন প্রথম এনআইএ থানার সূচনা হয়েছিল, তেমনই এবার প্রথমবার একসঙ্গে দু’টি এক্সক্লুসিভ এনআইএ আদালত চালু হওয়াও দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

Photo: Statesman

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কেন্দ্র বিশেষ আদালতগুলির জন্য আর্থিক সহায়তার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি আদালতের জন্য বছরে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত পুনরাবৃত্ত ব্যয় এবং প্রথম ২৪ মাসে এককালীন এক কোটি টাকা পর্যন্ত অবকাঠামোগত ব্যয় বহনের ব্যবস্থা থাকবে। তবে পৃথক আদালতকক্ষ ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের উপরই বর্তাবে। আইন মহলের একাংশের মতে, এই উদ্যোগ শুধু বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বাড়াবে না, জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তিতেও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।