কলকাতার ওয়ার্ড বিন্যাস পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর ফলে কিছু এলাকায় ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়বে, কিছু এলাকায় কমবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভোটার রাখার লক্ষ্যে এই পরিবর্তন করা হচ্ছে।
রাসবিহারীতে ওয়ার্ড সংখ্যা ৯ থেকে ১০ হতে পারে, ভবানীপুরে ৮ থেকে ১০, মেটিয়াবুরুজে ৬ থেকে ৮ হতে পারে। শ্যামপুকুরে আটটি ওয়ার্ডে গড়ে ১৬,৪৭৭ জন ভোটার থাকবে। টালিগঞ্জে চৌদ্দটি ওয়ার্ডে গড় ভোটার ১৬,৩০৫, এন্টালির গ্যারি ওয়ার্ডে ১৬,২৬২, বেহালা পূর্বের ষোলটি ওয়ার্ডে ১৬,১৪০ জন ভোটার থাকার প্রস্তাব রয়েছে।
ভবানীপুর ও রাসবিহারীতে ১০টি করে ওয়ার্ডে গড়ে ১৬,০৫১ জন ভোটার থাকবে। মেটিয়াবুরুজে প্রতি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে কম, ১৫,০২১। কসবায় ১৫,৬২৪ এবং বেহালা পশ্চিমে ১৫,৬৫৭ জন ভোটার থাকার প্রস্তাব রয়েছে।
কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের আগে ভোটার বণ্টনের ভারসাম্য আনতে এই সম্প্রসারিত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। কলকাতার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে। ১৪৪ থেকে ৬৫টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে ২০৯ টি ওয়ার্ড তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কসবা বিধানসভা ৬টি ওয়ার্ড থেকে বেড়ে ১৭টি করার প্রস্তাব। যাদবপুরে ১০ থেকে ওয়ার্ড বেড়ে ১৬টি করার প্রস্তাব। টালিগঞ্জে ওয়ার্ড সংখ্যা ৯ থেকে বেড়ে ১৪টি করার প্রস্তাব। বেহালা পূর্বে ১১ থেকে ১৬টি করার প্রস্তাব। বেহালা পশ্চিমে ১০ থেকে ১৭টি ওয়ার্ড করার প্রস্তাব।
কিছু এলাকায় ওয়ার্ড সংখ্যা কমবে। চৌরঙ্গী, জোড়াসাঁকো এবং শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রে বর্তমানে ১১টি করে ওয়ার্ড থাকলেও, প্রাথমিক খসড়ায় তা কমিয়ে ৮টি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘কলকাতার কোনও ওয়ার্ডে ৮০ হাজার ভোট আছে, আবার কোনও ওয়ার্ডে ১১ হাজার ভোটার আছে। সমানভাবে ভাগ নেই। সরকার যদি এটা সঠিকভাবে করে তাহলে ভালো হয়।’ অন্যদিকে, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ব্যাখ্যা, এমন এক একটা ওয়ার্ড আছে, যা আকারে অনেক বড়, কোনওটা খুব ছোট। অথচ কাউন্সিলর একই টাকা পায়। সে ক্ষেত্রে উন্নয়ন সঠিকভাবে হচ্ছে না বলে মনে করছেন তিনি। কলকাতা পুরনিগমের আসন পুনর্বিন্যাসের কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ডিসেম্বরে ভোটের আগেই সেই ডিলিমিটেশন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সূত্রের খবর, কোনও তাড়াহুড়ো করে নয়, শহরকে ছোট ছোট ওয়ার্ডে ভাঙার কাজ সময় নিয়ে, নিয়ম মেনেই করা হবে।