ডুবে যাওয়ার আগে ভারতের দ্বীপগুলির কথা তুলে ধরছেন সাংবাদিক

ImageL: SNS

ভারতের মানচিত্র থেকে একের পর এক দ্বীপ হারিয়ে যাচ্ছে। আর যে সমস্ত মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই দ্বীপগুলিতে বসবাস করে আসছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎও ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং অবিরাম ভাঙনের ফলে তৈরি হওয়া এই পরিবেশগত সংকটই কেরলের কোট্টায়াম-ভিত্তিক সাংবাদিক রেজি জোসেফকে তাঁর তিন দিনের ধারাবাহিক প্রতিবেদন ‘ডিসঅ্যাপিয়ারিং আইল্যান্ডস অব ইন্ডিয়া’ প্রকাশে উৎসাহিত করে।

জোসেফ (Reji Joseph) দ্য স্টেটসম্যান (The Statesman)-কে বলেন, “ভারতের দ্বীপগুলি ডুবে যাচ্ছে।” রাষ্ট্রদীপিকা দৈনিকে প্রকাশিত ওই ধারাবাহিক প্রতিবেদনে তিনি কোনও একটি বিপন্ন উপকূলকে আলাদাভাবে তুলে ধরেননি। বরং অসমের মাজুলি ও বাংলার সুন্দরবন থেকে শুরু করে লাক্ষাদ্বীপ এবং কেরলের বিপন্ন উপকূল পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই সংকটের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্যই জোসেফ (Reji Joseph) ২০২৫ সালের কুশরো ইরানি পরিবেশ সাংবাদিকতা পুরস্কার লাভ করেছেন। দ্য স্টেটসম্যান (The Statesman) এবং সি আর ইরানি ফাউন্ডেশন যৌথভাবে তাঁকে এই পুরস্কার প্রদান করেছে।জোসেফের (Reji Joseph) প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে, দ্বীপের জমি হারিয়ে যাওয়া শুধুমাত্র কোনও পরিবেশগত পরিসংখ্যান নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা, জীববৈচিত্র্য এবং বহু বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।

আরও পড়ুন:  জঙ্গলের পথ পেরিয়ে ভুলে-যাওয়া কেরলের আদিবাসী জনপদে পৌঁছেছিলেন যে সাংবাদিকতাঁর (Reji Joseph)প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মাজুলি। এটি বিশ্বের বৃহত্তম নদীদ্বীপ এবং ভারতের প্রথম দ্বীপ, যাকে একটি জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। একসময় প্রায় ১,২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকা মাজুলির প্রায় ৬০ শতাংশ জমি ইতিমধ্যেই ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে চলে গেছে। নদীভাঙনের কারণে সেখানকার বহু গ্রামে বসবাস করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। নদী গিলে নিচ্ছে চাষের জমি, এমনকী মানুষের বাড়িঘরও।

আরেকটি বড় উদাহরণ সুন্দরবন। জোসেফ  (Reji Joseph) তাঁর প্রতিবেদনে ঘোড়ামারার মতো দ্বীপগুলিতে ক্রমাগত ভাঙনের চিত্র তুলে ধরেছেন। সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি, প্রবল ঢেউ এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার কারণে সেখানকার মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা বিপদের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ অরণ্যের পরিবেশব্যবস্থাও।


<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>Cushrow Irani Prize for Environmental Reporting 2025<br><br>Reji Joseph won the Cushrow Irani Prize for Environmental Reporting 2025 for his wide-ranging series, “Disappearing Islands of India,” which documents the impact of erosion, rising seas, climate change and ecological damage on… <a href=”https://t.co/j9ZWptzI3A”>pic.twitter.com/j9ZWptzI3A</a></p>&mdash; The Statesman (@TheStatesmanLtd) <a href=”https://x.com/TheStatesmanLtd/status/2100226163000156523?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 16, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি লাক্ষাদ্বীপও। জোসেফ (Reji Joseph) তাঁর প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি দ্বীপের কথা বলেছেন, যেগুলি ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে অথবা যাদের জমির বড় অংশ সমুদ্রের গ্রাসে চলে গেছে। লাক্ষাদ্বীপের বহু বসতিপূর্ণ দ্বীপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র এক-দুই মিটার উঁচু হওয়ায় সেগুলির বিপন্নতা আরও বেশি।

কেরলেও তাঁর প্রতিবেদনের বিষয় ছিল বন্যা, উপকূলভাঙন এবং প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়া মানুষ ও সম্প্রদায়গুলি।

তবে জোসেফের (Reji Joseph) কাজ শুধুমাত্র পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নয়। বিপন্ন দ্বীপগুলিকে রক্ষা করার জন্য যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলিও তিনি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার, প্রবাল প্রাচীর পুনর্গঠন, কৃত্রিম প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি এবং অন্যান্য সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন: ‘দ্য স্টেটসম্যান রুরাল রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫‘-এর দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন জ্যোতি যাদবজোসেফ (Reji Joseph) বলেন, “আমার কাছে এই গল্পগুলি শেষ পর্যন্ত শুধু হারিয়ে যেতে বসা জমির গল্প নয়। এগুলি এমন মানুষদের গল্প, যাঁদের নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং জীবনযাত্রার পদ্ধতি হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।” তাঁর তিন দিনের এই ধারাবাহিক প্রতিবেদন দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা একটি পরিবেশগত সংকটকে মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত একটি তাৎক্ষণিক সমস্যায় পরিণত করেছে। একই সঙ্গে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এনেছে—সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ এবং সরকারি পদক্ষেপ কি যথেষ্ট দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে, যাতে ভারতের হারিয়ে যেতে বসা দ্বীপগুলিকে রক্ষা করা যায়?