রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পর এ বার সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা পর্ষদের কর্মীদের বেতনকাঠামো পর্যালোচনার দায়িত্ব পেল সপ্তম বেতন কমিশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মচারীদের পাশাপাশি মধ্যশিক্ষা, উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের কর্মীরাও আসছেন কমিশনের আওতায়। গত ৫ নভেম্বর নবান্নের অর্থ দফতরের অডিট শাখা থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যপালের অনুমোদনক্রমে সপ্তম বেতন কমিশনের কাজের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীদের বেতনকাঠামো এবং চাকরির শর্তাবলি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে কমিশনকে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও স্কুলশিক্ষা ক্ষেত্রের একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা উপকৃত হতে পারেন। বিজ্ঞপ্তির সংযুক্ত তালিকায় মোট ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রয়েছে। তার মধ্যে কলকাতা, যাদবপুর, বর্ধমান, কল্যাণী, উত্তরবঙ্গ, রবীন্দ্রভারতী, বিদ্যাসাগর, গৌড়বঙ্গ, নেতাজি সুভাষ মুক্ত, মাকাউট এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
এ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়, সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়, ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
একই তালিকায় রয়েছে বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এবং পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের কর্মীদের বেতন ও চাকরির শর্তও পর্যালোচনা করবে কমিশন।
সপ্তম বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক নবীন প্রকাশ। কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, স্কুলশিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মাদ্রাসা শিক্ষা-সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, এই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশ কলকাতা গেজেটে প্রকাশেরও নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।
ফলে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা পর্ষদগুলির কর্মীরা। তবে বেতনকাঠামোয় কী ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।