যেকোনো পরিস্থিতিতেই হাওড়াকে খাটালমুক্ত করতে হবে। অবৈধ নির্মাণও সহ্য করা হবে না, বললেন উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই।
দৈনিক স্টেটসম্যানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংসদীয় বিষয়ক এবং নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, ‘অবৈধ খাটাল উচ্ছেদ হবেই। শহরে খাটাল থাকার নিয়ম নেই। তারপরও থাকবে কেন? যেটা বেআইনি, সেটা বেআইনিই—সে খাটাল হোক বা অবৈধ নির্মাণ।’
বৃষ্টি হলেই শুধু উত্তর হাওড়া নয়, হাওড়ার অধিকাংশ এলাকাই জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, হাওড়ার জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে এই মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ৪,৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ অর্থ দেবে কেন্দ্র সরকার এবং বাকি ৩০ শতাংশ বহন করবে রাজ্য সরকার। হাওড়া মাস্টার প্ল্যান মূলত শহরের দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা ও বেহাল নিকাশি পরিকাঠামোর উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত একটি মেগা প্রকল্প।
বর্ষাকালে হাওড়াবাসীকে দীর্ঘস্থায়ী জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, হাওড়া পুরসভা বা হাওড়া পুর নিগমের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্পের কাজ করবে কেএমডিএ এবং একটি বেসরকারি সংস্থা।
উমেশ রাই বলেন, ‘বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নজরে ইতিমধ্যেই আনা হয়েছে।’ তিনি আশ্বস্ত করেছেন, খুব শীঘ্রই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
এখন শুধু কেন্দ্রের চূড়ান্ত অনুমোদন বাকি। অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। তিন থেকে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে হাওড়ার জলযন্ত্রণা ও বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা থেকে গোটা শহরবাসী মুক্তি পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিগত কয়েক বছরের অবহেলায় হাওড়া শহরের পরিকাঠামো ভিতর থেকে ফোঁপরা হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টির জল নিষ্কাশন ও নিকাশি ব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থার পরিবর্তনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রাও। নতুন সরকার সেই লক্ষ্যেই একধাপ এগিয়ে রয়েছে।
হাওড়ার জলযন্ত্রণা দূর করতে তৈরি হয়েছে এই মাস্টার প্ল্যান। বিধায়কের দাবি, সামান্য বৃষ্টি হলেই পচা, কর্দমাক্ত জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয় সাধারণ মানুষকে। হাওড়া শহরের অধিকাংশ এলাকাতেই একই চিত্র দেখা যায়। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ নাগরিকদের পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে পূর্বতন সরকার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তবে আর প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত এই সমস্যা থেকে হাওড়াবাসীকে মুক্তি দিতেই কাজ করছে নতুন সরকার।