১০০ দিনের কাজের আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও দীর্ঘ চার বছর ধরে বকেয়া বিল না মেলার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ১,৮৪৮ জন ঠিকাদার ও সরবরাহকারী। ‘সারা বাংলা রুরাল ডেভেলপমেন্ট কন্ট্রাক্টরস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় দাবি করা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে সরকারি অনুমোদিত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করলেও এখনও বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া রয়েছে।
আবেদনকারীদের দাবি, রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পে বালি, ইট, সিমেন্ট, স্টোন চিপস-সহ নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ এবং বৃক্ষরোপণ-সহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পরও বহু ঠিকাদার ও সরবরাহকারী তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পাননি। সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে মোট প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সংগঠনের অন্তর্গত ১,৮৪৮ জন ঠিকাদার ও সরবরাহকারীর ক্ষেত্রে ৬১৪ কোটি ৮ লক্ষ টাকার ফান্ড ট্রান্সফার অর্ডার (এফটিও)-এর মধ্যে এখনও ১৩৮ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে ফান্ড ট্রান্সফার অর্ডার তৈরি হলেও অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি। আবার বহু ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়াই সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ।
সংগঠনের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস শামীম আদালতে জানান, বিল না পাওয়ায় বহু ঠিকাদার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ঋণের বোঝা বাড়তে বাড়তে কয়েকজন সদস্য আত্মহত্যা করেছেন বলেও আদালতে দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের ২৭ জুন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। এরপরই বকেয়া বিল আদায়ের দাবিতে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়।
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও মন্তব্য করেন, ‘১০০ দিনের কাজের মামলাকারীদের বকেয়া দিয়ে দিক।’ তবে রাজ্যের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী সমস্যার সমাধানের জন্য আদালতের কাছে এক মাস সময় চান।
আবেদনকারীদের দাবি, কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরও প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখা সংবিধানের ১৪, ১৯(১)(জি) এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। প্রশাসনিক জটিলতা বা বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ের অভাবের দায় ঠিকাদারদের ওপর চাপানো যায় না বলেও তাঁদের বক্তব্য।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১২ অগাস্ট বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে হবে। সেদিন আদালতে রাজ্যের অবস্থান এবং বকেয়া বিল মেটানোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।