প্রশ্ন: শুধু নিজের কেন্দ্র নয়, গোটা রাজ্যের দায়িত্বও রয়েছে। কীভাবে সামলাচ্ছেন?
উত্তর: মানুষ প্রচুর আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমাদের সরকারকে এনেছে। আর আমার যে দপ্তর, স্কুল শিক্ষা দপ্তরে প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে,সেখানে যথোপযুক্ত কাজ করাটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জের। থেকে কাজ করে যাওয়াটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জের। প্রচুর মেধাবী ছাত্রছাত্রী বঞ্চিত হয়েছেন। আমাদের উপর বাড়তি চাপ রয়েছে, কারণ প্রচুর মানুষ চাইছেন যথোপযুক্ত কাজ হোক। দুর্নীতির শিকড় যেখানে বিস্তৃত, সেখান থেকে কাজ করাটাই একটা বাড়তি চাপ। শিশুরা সুন্দরভাবে পড়াশোনা করবে, শিক্ষক-শিক্ষিকারাও নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন, অবশ্যই স্বচ্ছতার সঙ্গে—এই গোটা বিষয়টা সামলাতে হচ্ছে। কঠিন হলেও ভরসা রয়েছে, পারতে হবে।
প্রশ্ন: শিশুদের শিক্ষার কথা আপনি বললেন। সরকারি স্কুলগুলিতে পরিকাঠামো যথেষ্ট নয়। সেখানে নতুন কী ভাবনা রয়েছে?
উত্তর: হ্যাঁ, সরকারি স্কুলগুলিতে পরিকাঠামোর যথেষ্ট অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা নেই, শৌচাগার নেই। এগুলোকে আমরা আস্তে আস্তে ঠিক করব। প্রায় সাড়ে আট হাজারের বেশি সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। ৮১ হাজারেরও বেশি মাধ্যমিক, প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক স্কুলের অবস্থা রীতিমতো শোচনীয়। এগুলোকে ঠিক করতেই হবে। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি বিদ্যালয়ের প্রতি শিশু এবং তাদের অভিভাবকদের অনীহা দেখা দিচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হল, যারা সরকারি বিদ্যালয়ের প্রতি বিমুখ হয়েছিলেন, তাদের ফিরিয়ে আনা। তাদের বোঝানো যে, আমরা স্কুলে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করছি, যাতে শিশুরা ভালো থাকতে পারে। তার জন্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন তো করতেই হবে। সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনুপাত, সেটাও দেখতে হবে। ইতিমধ্যেই আপনারা জানেন, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটা বিশাল হাইক হয়েছে। স্কুলে ভালো পরিবেশের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকাও থাকে। তাঁরাও যাতে একটা উপযুক্ত পরিবেশ পান, সেটাও দেখা হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পড়ানোর সক্ষমতা, সেটার মানোন্নয়নের দিকেও নজর দেব।
প্রশ্ন: গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি মেটাবেন কীভাবে?
উত্তর: বিশাল বড় একটা ঘাটতি রয়েছে। সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাই চান শহরে পড়াতে, বাড়ির কাছাকাছি পড়াতে। আবার শহরের চিত্রটা একেবারেই আলাদা। আমি নিজে কয়েকটি স্কুল দেখেছি। শহরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন স্কুলগুলিতে। আমরা সহজ বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে আসছি, যাতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেশি দূরে যেতে না হয়। বদলি সংক্রান্ত বিষয়টা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। মেদিনীপুরের একজন আসছেন কোচবিহারে পড়াতে, কোচবিহারের একজন যাচ্ছেন মেদিনীপুরে পড়াতে। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মন পড়ে থাকছে তাঁর বাড়ির কাছেই। বদলি এবং শিক্ষক-শিক্ষিকার সামঞ্জস্য—দুটিই আমাদের নজরে রয়েছে। বদলি সংক্রান্ত নীতিতে বদল আনা হবে। এছাড়া মিড-ডে মিলে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। স্কুল বিল্ডিংগুলিকে নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে। আমরা যারা শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছি, আমরা চেষ্টা করছি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে স্কুল বিল্ডিংগুলিকে আবার নতুন করে সাজিয়ে তুলতে।
প্রশ্ন: মানুষ প্রত্যাশা করে আছে, নিয়োগ হবে শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছ এবং সুনির্দিষ্টভাবে। কীভাবে দেখছেন বিষয়টিকে?
উত্তর: নিয়োগ হবে স্বচ্ছ এবং সুনির্দিষ্টভাবেই। কোনও রাজনৈতিক দখলদারি চলবে না। কারও সুপারিশে কারও চাকরি হবে না। এসএসসির পাঁচটি জোন ছিল। সেই জোনভিত্তিক নিয়োগ হবে আবার। দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমাদের জিরো টলারেন্স। যারা যোগ্য, তাঁরাই চাকরি পাবেন। সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া, কোনওরকম দুর্নীতি ছাড়া যে নিয়োগ হতে পারে, সেই বিশ্বাস আমরা ফিরিয়ে আনব। কারণ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেই বিশ্বাসটাই চলে গেছে যে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছাড়া চাকরি হতে পারে। সুতরাং নিয়োগ হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়।
প্রশ্ন: নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার বিপরীতে ছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। নানান কারণে তিনি খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। যথেষ্ট কঠিন লড়াই ছিল রায়গঞ্জে। জয়ের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস ছিল আদৌ?
উত্তর: খুব কঠিন লড়াই ছিল। গত ১৫ বছর ধরে তোলাবাজির সরকার, নৈরাজ্যের সরকার মানুষ দেখেছে। প্রচারের সময় আমি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। আমি বোঝার চেষ্টা করেছি, মানুষ কী চাইছেন। তিনি দল বদলেছেন। যেভাবে বাহুবলি ইমেজ তৈরি করে অত্যাচার করেছেন, তাতে মানুষ তাঁর উপর বিশ্বাস বজায় রাখতে পারেনি। মানুষ চেয়েছিল পরিবর্তন। নির্বাচনের কিছুদিন আগেও তিনি আমার নামে কুৎসা রটিয়েছিলেন। মানুষ ভরসা রেখেছে আমার উপর। এটাই পাওনা।
প্রশ্ন: আপনি এত সাধারণ জীবনযাপন করেন। সাধারণ পোশাক। এটাই কি আপনার ইউএসপি?
উত্তর: আমি বরাবরই খুব সাধারণ। মন্ত্রী-বিধায়ক হয়ে গেলে কি অসাধারণ জীবনযাপন করতেই হবে? এটাই তো আমাদের দায়িত্ব—সাধারণ মানুষের পাশে থাকা, তাঁদের মতো হয়ে থাকা। যাঁদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে যদি চলে যাই, তাহলে কোনও কাজ ঠিক করে করতে পারব না। অসাধারণ জীবনযাপন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে দূরে চলে গেলে কী হয়, সেটা মানুষই বুঝিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন: আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে আপনার অধীনে—দমকল ও জরুরি পরিষেবা দপ্তর। দমকল ঠিকমতো পৌঁছতে পারেনি বলে বহু দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য কী ভাবনা রয়েছে?
উত্তর: ফায়ার স্টেশনগুলিতে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির প্রয়োজন রয়েছে। সেগুলো আনার ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি। কর্মীর অভাব রয়েছে দপ্তরে। সেটা কীভাবে সমাধান করা যায়, সেটাও দেখা হচ্ছে। আসানসোল, দুর্গাপুর, রায়গঞ্জের মতো বড় শহরে দুর্ঘটনার প্রবণতা বেশি। কত তাড়াতাড়ি দমকল পৌঁছবে, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য আলাদা করে টেকনিক্যাল হেল্প নেওয়া হচ্ছে।